শীতলক্ষ্যায় অপহৃত ব্যবসায়ীর মরদেহ


প্রকাশিত: ১১:০৬ এএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৬

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নবির হোসেন নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পূর্ণবাসন কেন্দ্রের ৬নং ঘাট থেকে নবির হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নবীর হোসেন উপজেলা হাটাব আতলাশপুর এলাকার আব্দুল্লাহ মিয়ার ছেলে।

রূপগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহাম্মেদ জানান, দুপুর ১২টার দিকে ৬নং ঘাটের শীতলক্ষ্যা নদীতে এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে নবির হোসেনের মা হিরু বানু ও ভাবি রুজিনা বেগম মরদেহ শনাক্ত করেন। মরদেহ নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এক সপ্তাহ আগেই নবির হোসেনকে হত্যার পর শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়া হয়। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে।

নবির হোসেনের ভাই জাকারিয়া জানান, গত ২০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়ি হাটাব আতলাশপুর থেকে কাঞ্চন যাওয়ার কথা বলে একই এলাকার সুকুমারের ছেলে উত্তমের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরেনি নবীর হোসেন। আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজের দুইদিন পর জাকারিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সাধারণ ডায়েরি করার পর এক দুর্বৃত্ত নিজেকে মানিকগঞ্জের পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পরিচয় দিয়ে জানায়, নবির হোসেন জখম অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। বিকাশের মাধ্যমে চিকিৎসা বাবদ কয়েক হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

মানিকগঞ্জ যাওয়ার পর ওই প্রতারকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে বার বার অভিযোগ করলেও কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি।

নবির হোসেনের পরিবারের অভিযোগ, নবির হোসেন একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। একই বাড়ির সিঙ্গাপুর প্রবাসী কবির হোসেনের সঙ্গে বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত এক বছর আগে কবির হোসেন ও তার লোকজন নবির হোসেনের পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। ওই ঘটনায় প্রতিবাদ করেছিলেন নবির হোসেন এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছিল।

মামলা দায়েরের পর (একটি মাথা কেটে নেবে বলে) হুমকি দিয়ে বিদেশে চলে যায় কবির হোসেন। বিদেশ থেকে আসার তিন দিন পর নবির হোসেনকে অপহরণ করা হয়। এছাড়া বাড়ির জমি জবর দখলের করতে নানাভাবে পায়তারা করে আসছিল। বিভিন্ন সময় নানাভাবে হুমকি-ধামকিও দিতো।

কবির হোসেন প্রভাবশালী হওয়ায় পরিবারের কেউ প্রতিবাদ করার সাহস টুকুও পায়নি। নবির হোসেনকে প্রতিপক্ষের লোকজন অপহরণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়া হয় বলে তারা দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মীর আব্দুল আলীম/এআরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।