প্রতিবন্ধী মামুনের সফলতার গল্প
প্রতিবন্ধীরা পরিবার ও সমাজের বোঝা নন, সমাজের উঁচুতলার মানুষ এবং রাষ্ট্রের সহযোগিতা পেলে নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধী নারী বা পুরুষ রাষ্ট্রের সম্পদে পরিণত হতে পারেন। আর সেটাই প্রমাণ করলেন ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ড উপজেলার পৌরসভাধীন মান্দারতলা গ্রামের আব্দুর রহিম জোয়ার্দ্দারের ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী মামুন জোয়ার্দ্দার।
মামুন জানান, তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মামুন সবার বড়। মামুন এ বছর মাশরুম চাষে সফল প্রতিবন্ধী আত্মকর্মী হিসেবে জাতীয় যুব পুরস্কার-২০১৬ লাভ করেছেন। তিনি ১ নভেম্বর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন।
তিনি আরও জানান, ১৯৮৬ সালে ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী ওয়াজীর আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করার পর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও সাংসারিক প্রয়োজনে আর পড়াশোনা করা সম্ভব হয়নি। তবু দমে যাননি তিনি। পরিবার ও সমাজের বোঝা না হয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ও মনোবল নিয়ে ২০০২ সালে স্থানীয় যুব উন্নয়ন অধিদফতর থেকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১ হাজার টাকা যুব ঋণ নিয়ে নিজ বাড়িতে শুরু করনি মাশরুম চাষ, টিসুকালচার, মাশরুম পণ্য উৎপাদন ও বিপণন। এরপর আর মামুনকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বেলাল হোসেন জানান, প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী মামুনকে মাশরুম চাষে উৎসাহ দিতে ও স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকার যুব ঋণ প্রদান করা হয়। মামুন উপজেলার সফল আত্মকর্মী। তিনি উপজেলার গর্ব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন বলেন, মামুন শুধু হরিণাকুন্ড উপজেলা নয় সে সারা বাংলাদেশের গর্ব। সফল এ যুবককে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান। মামুন সারা ঝিনাইদহে মাসরুম চাষে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারেন বলেও উল্লেক করেন তিনি।
এফএ/এমএস