ধর্ষণে সহায়তা করায় মায়ের বিরুদ্ধে মেয়ের মামলা
ঝালকাঠির রাজাপুরের কেওতা গ্রামে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে স্কুলপড়ুয়া দশম শ্রেণির এক ছাত্রী।
বুধবার দুপুরে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার কর্মস্থলে না থাকায় ওই ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ধর্ষিতার মামা আলমগীর হোসেন।
মামলায় ওই ছাত্রীর মাকে ২ নং আসামি এবং উপজেলার কেওতা গ্রামের মৃত মালেক হাওলাদারের ছেলে ধর্ষক দুলাল হাওলাদারকে (৪৫) প্রধান আসামি করা হয়েছে।
সোমবার রাত সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার ত্রিপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ওই ছাত্রী রাজাপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা করে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১০ বছর আগে ওই ছাত্রীর বাবা নিখোঁজ হওয়ার পর দুই বোনকে নিয়ে নানাবাড়ি বসবাস করে আসছেন মা সেনোয়ারা বেগম। বাবার অবর্তমানে প্রায় ১০ বছর ধরে আইনজীবী পরিচয়ধারী দুলাল হাওলাদার তাদের ঘরে আসা-যাওয়া করতো। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে দুলালের শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর কিছুদিন আগ থেকে ওই নির্যাতিতা স্কুলছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে দুলাল।
মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, ধর্ষক দুলাল হাওলাদার ওই ছাত্রীর ছোট বোনের সঙ্গে সম্পর্কের চেষ্টা করে। পাশাপাশি নির্যাতিতা ছাত্রীকে বিয়ের জন্য ভয়ভীতি দেখায় ও হুমকি দেয়। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর মায়ের সহায়তায় তাকে ধর্ষণ করা হয়।
এ বিষয়ে রাজাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) হারুন অর রশিদ জানান, মায়ের সহায়তায় ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছ। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (২০০০ এর ৯(১)/৩০) ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং ওই ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
মো. আতিকুর রহমান/এএম/এমএস