হজে পাঠানোর নামে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


প্রকাশিত: ০৭:২০ এএম, ০৪ নভেম্বর ২০১৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের বজরা হলদিয়া গ্রামের আলহাজ্ব মোকলেছুর রহমান মণ্ডলের বিরুদ্ধে হজে পাঠানোর নামে সাত ব্যক্তির কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক সালিশ বৈঠকের পর মোকলেছুর রহমান নন জুডিশিয়ালে স্ট্যাম্পে টাকা ফেরতের অঙ্গীকার করলেও আজাে টাকা পায়নি ভূক্তভোগীরা। মোকলেছুর রহমান মণ্ডল বজরা হলদিয়া গ্রামের মৃত নুরুল হক মণ্ডলের ছেলে।

ভূক্তভোগী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রাজিবপুর গ্রামের আবুল কাশেম ও মজিবর রহমান জানান, ২০১৫ সালে হজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মোকলেছুর রহমান মণ্ডলের সঙ্গে আড়াই লাখ টাকা করে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী সময় মত আমরা তার কাছে টাকা দেই। কিন্তু সে বছর মোকলেছুর রহমান তাদের হজে পাঠাতে পারেনি। এখন টাকা ফেরত দিতে তালবাহনা করছেন তিনি।

এছাড়া একইভাবে বেলা খাতুন, মমতাজ আলী, নুরুজ্জামান সরকার, বাদশা মিয়া ও রোকেয়া বেগমের কাছ থেকে আড়াই লাখ করে ১৭ লাখ টাকা আদায় করেন মোকলেছুর রহমান।

নুরুজ্জামান সরকার ও বাদশা মিয়া জানান, মোকলেছুর রহমান হজে পাঠানোর কথা অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু তিনি দুই বছরে কাউকে হজে পাঠাতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিশ বৈঠক হলে মোকলেছুর রহমান চলতি বছরে তাদের হজে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এ বছরও তিনি ব্যর্থ হন। ফলে ২০১৫-২০১৬ সালে দুই বছরে একজনকেও হজে পাঠাতে পারেননি মোকলেছুর রহমান।

এদিকে ভূক্তভোগীরা টাকা ফেরতের জন্য বিষয়টি গাইবান্ধা জেলা হাজি কল্যাণ সমিতির সভাপতিকে অবগত করেন। পরে সভাপতিসহ সমিতির লোকজনের উপস্থিতিতে মোকলেছুর রহমানের নিজ বাড়িতে পূণরায় বৈঠক হয়। বৈঠকে মোকলেছুর রহমান ৩শ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে টাকার ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

এরমধ্যে ০১ নভেম্বর ৩ লাখ ৫০ হাজার, ১৫ ডিসেম্বর ৭ লাখ ও ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি বাকি ৭ লাখ টাকা দেওয়ার কথা স্ট্যাম্পে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ১ নভেম্বর অতিবাহিত হলেও টাকা ফেরত দেননি মোকলেছুর রহমান। বরং তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে পাওনাদারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মোকলেছুর রহমানের ছেলে গালামাল ব্যবসায়ী সবুর মণ্ডলের সঙ্গে কোনো দালাল চক্রের আতাঁত রয়েছে। এ কারণে হজে পাঠানোর কথা বলে প্রতি বছর মোকলেছুর রহমান হজ গমণইচ্ছুক ব্যক্তির কাছে লাখ লাখ টাকা আদায় করেন। মূলত মোকলেছুর রহমান একজন আদম ব্যবসায়ী বলে দাবি এলাকাবাসীর।

এ ব্যাপারে হাজী কল্যাণ সমিতি গাইবান্ধা জেলা সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর আলহাজ মো. আজগর মিয়া জানান, হজ গমণইচ্ছুক ব্যক্তির টাকা ফেরতের বিষয়টি নিয়ে আগে বৈঠক হয়েছিল। সেসময় স্ট্যাম্পে টাকা ফেরতের অঙ্গীকার করেন মোকলেছুর রহমান। টাকা ফেরতের বিষয়টি নিয়ে তিনি আবারও মোকলেছুর রহমানের সঙ্গে কথা বলবেন।

তবে অভিযুক্ত মোকলেছুর রহমান জানান, সমস্যা থাকায় টাকা ফেরত দিতে পারছেন না। কিছুদিনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সবার টাকা ফেরত দিবেন।

এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।