গাইবান্ধায় কর্মজীবী নারীদের চিন্তা দূর করেছে ডে-কেয়ার সেন্টার


প্রকাশিত: ০২:০৭ পিএম, ০৭ নভেম্বর ২০১৬

শিশুদের বাড়িতে রেখে বাইরে কাজ করতে গিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতেন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কর্মজীবী মায়েরা। কারণ বাড়িতে শিশুদের দেখভাল করার মতো কেউ থাকতো না। এ কারণে ঘটেছে বড় দুর্ঘটনাও।

এসব ঘটনা মাথায় রেখে উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ধনারপাড়া ও উদাখালী ইউনিয়নের কালিরবাজার গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে ডে-কেয়ার সেন্টার। ফলে ওইসব গ্রামের কর্মজীবী নারীরা তাদের সন্তানদের সেখানে রেখে নিশ্চিন্তে কাজ করতে পাচ্ছেন। আর শিশুদের দিন কাটচ্ছে আনন্দ-বিনোদনের মধ্যে দিয়ে।

শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ২০১৪ সালের জুন মাসে বেসরকারি সংগঠন এসকেএস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ৫টি ডে-কেয়ার সেন্টার গড়ে তুলেছেন। এরমধ্যে ধনারপাড়া গ্রামে আলোর দিশারী নামে একটি ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। রয়েছে কালিরবাজারেও।

কর্মজীবী নারীদের জন্য গড়ে তোলা এসব ডে-কেয়ার সেন্টারে নদী ভাঙন কবলিত এলাকার দরিদ্র পরিবারের অসহায় শিশুদের ঠাঁই হয়েছে।

Gaibandha

প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খেলাধুলা, নাচ-গান, ছবি আঁকা, ছড়া ও লেখাপড়ার মাধ্যমে বর্তমানে ৩০ জন শিশুর সময় কাটছে এসব সেন্টারে।

কাজের ফাঁকে দুপুরে এসে মা-বাবা তাদের সন্তানদের খাওয়াচ্ছে। এরপর দিনভর হেঁসে খেলে সিসিমপুরের হালুম আর টুকটুকির সঙ্গে সময় কাটছে দরিদ্র পরিবারের ৬ মাস থেকে ৪ বছর বয়সের শিশুদের।

সন্তানকে সারাদিন ডে-কেয়ার সেন্টারে নিরাপদে রাখতে পেরে খুশি হয়ে কেন্দ্র সহায়িকাকে প্রতিমাসে ২০ থেকে ২৫ টাকা করে প্রদান করেন নারীরা।  

কর্মজীবী নারী আমেনা বেগম, আনোয়ারা বেগম ও আজেনা বেগম জানান, ডে-কেয়ারে বাচ্চা রেখে মাঠে কাজ করি। বাচ্চারা নিরাপদ থাকে। অনেক খেলাধুলা শেখে। বাচ্চাদের দেখাশোনার জন্য একজন শিক্ষক আছে। আগে ডে-কেয়ার সেন্টার না থাকায় পানিতে পড়ে বাচ্চা মারা গেছে। আগুনে পোড়া গেছে। কিন্তু এখন আর সেই ভয় নেই।

Gaibandha

এনজিও কর্মী রনজিত কুমার পাল জানান, বাচ্চারা যাতে নিরাপদে থাকে এবং শ্রমজীবী নারীদের কাজ করতে যাতে সুবিধা হয় এ কারণে আমাদের সংগঠন এদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা শিশু ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাবিবা খাতুন বলেন, একজন কর্মজীবী নারী যখন বাচ্চাকে নিয়ে চিন্তায় থাকে তখন সে কিন্ত কাজে মনোনিবেশ করতে পারেনা। এই ডে-কেয়ারে নিশ্চন্তায় যখন তার বাচ্চাকে রেখে যেতে পারছে, তখন সে কাজে মন দিতে পারছে। তবে সরকারের পাশাপাশি এমন উদ্যোগের পাশে সবাইকে দাঁড়ানো দরকার বলে মনে করেন তিনি।

এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।