রমেক হাসপাতালে ওষুধ সঙ্কট, দূর্ভোগে রোগীরা
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের টানা হরতাল-অবরোধে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (রমেক) দেখা দিয়েছে ওষুধ সঙ্কট। ফলে দূর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। রমেক হাসপাতালের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রমেক হাসপাতালের নাক, কান, গলা, দন্ত ও চোখসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, রোগীরা চিকিৎসা গ্রহণের পর চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী ওষুধের কাউন্টারে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত ওষুধ পেতে ব্যর্থ হন। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত সাতদিন ধরে নতুন ওষুধের চালান আসতে না পারায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মেডিকেলের শুধু বহিঃর্বিভাগেই নয় আন্তঃবিভাগে ভর্তি রোগীরা বিনামূল্যে সরকারি ওষুধ পাচ্ছেন না।
সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আক্তারুজ্জামান জ্বর ও আমাশয়ের জন্য বহিঃর্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসলে চিকিৎসক প্যারাসিটামল ও মেট্রোনিডাজল গ্রুপের ওষুধ দেন। তিনি ওষুধ কাউন্টারে যোগাযোগ করলে তা নেই বলে জানানো হয়। একই সমস্যায় পড়েছেন বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীরা। অনেক ওষুধ কয়েকদিন আগে হাসপাতালে পাওয়া গেলেও এখন তা তারা পাচ্ছেন না।
হাসপাতাল সাব মেডিসিন স্টোর সূত্রে জানা গেছে, জীবনরক্ষাকারী ও এন্টিবায়েটিকসহ প্রায় ১৪০ ধরনের বিভিন্ন রোগে কার্যকর ওষুধ হাসপাতালের বহিঃর্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগ রোগীদের প্রতিদিন সরবরাহ করা হতো। কিন্তু অবরোধের কারণে নতুন ওষুধের চালান আনতে না পারায় গত সাতদিন ধরে ইনজেকশন ও সাধারণসহ প্রায় ৪০ প্রকার ওষুধের স্টোক শেষ হয়ে গেছে। তবে পেট্রলবোমায় অগ্নিদগ্ধ রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহ আছে।
সাব মেডিসিন স্টোরের ইনচার্জ ফার্মাসিস্ট মোকছেদুল হক বলেন, দ্রুত আনায়নের ব্যবস্থা না হলে হাসাপাতালে ওষুধের সঙ্কট চরম আকার ধারণ করবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রমেক হাসপাতালের অপর এক ফার্মাসিস্ট জানান, মূলত নিরাপত্তার অভাবে অবরোধে ওষুধ আনা যাচ্ছে না। কারণ, বগুড়া জেলাসহ রংপুর-বগুড়া হাইওয়ের বিভিন্ন পয়েন্ট বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল বাতেন বলেন, অবরোধে সমস্যা হয়েছে এ কথা সত্য। কিন্তু বর্তমানে কত প্রকার ওষুধের স্টক শেষ হয়েছে তা না দেখে বলা যাবে না। তবে দ্রুত ওষুধ আনার জন্য তার পক্ষ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে।
এএইচ/পিআর