বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কিশোরীকে অপহরণ


প্রকাশিত: ০৩:৫১ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৬

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় বাবা-মা ও বৃদ্ধা দাদীকে মারধর করে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে (১১) অপহরণ করে নিয়ে গেছেন কফিল উদ্দিন (২৫) নামে এক বখাটে।

সোমবার বিকেলে ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রের দুর্গম চরের বাজে ফুলছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কফিল উদ্দিন একই গ্রামের শাহা আলীর ছেলে। এর আগে তিনি দুটি বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বেশিদিন তার সংসার টেকেনি।

এদিকে বখাটে যুবকের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর তাদের হুমকিতে আহত সুজা মিয়া তার  স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এমনকি তারা বাড়ির বাইরে বের হতে পারছেন না।

অপহৃত ছাত্রীর বাবা সুজা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কফিল উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন নাবালিকা সুপ্রিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সুপ্রিয়ার বয়স কম ও ছেলের সমস্যা থাকায় বিয়ে দিতে রাজি হয়নি। এরপর মেয়েকে তার নানার বাড়ি জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার ঘুটাইল গ্রামে পাঠিয়ে দিই।

সুপ্রিয়া ঘুটাইল উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। কয়েকদিন আগে সুপ্রিয়া বাড়িতে আসলে কফিল উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন আবারো সুপ্রিয়াকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়।

তিনি আরো বলেন, সোমবার বিকেলে কফিল উদ্দিন তার বাবা শাহা আলী, চাচা সন্দেশসহ কয়েকজন বাড়িতে এসে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা আমার স্ত্রী, বৃদ্ধ মা ও আমাকে মারধর করে সুপ্রিয়াকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাদের মারধরে আমার স্ত্রী ও মাসহ আমি আহত হই। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ফুলছড়ি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল খালেক জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, খবর পেয়ে সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জিল্লুর রহমান পলাশ/এএম/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।