পদত্যাগ করেছেন আইভী


প্রকাশিত: ১১:০৬ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৬
ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এ সময় তিনি বলেন, সব সময় আমার আদর্শ ও সততা দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কখনো কোনো অপশক্তির কাছে মাথানত করিনি।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নগর ভবন প্রাঙ্গণে নাসিকের মেয়র পদ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তিনি বলেন, জবাবদিহিতার মধ্যে গত পাঁচ বছর আমি কাজ করেছি। আল্লাহকে হাজির নাজির রেখে জনসেবা করেছি। আমি এক টাকাও দুর্নীতি করিনি। সিটি কর্পোরেশনের অনেক উন্নয়ন হয়েছে জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। শতভাগ ট্যাক্স আদায় না হওয়াটা আমার ব্যর্থতা। ৬০ ভাগ ট্যাক্স আদায় করা সম্ভব হয়েছে। আর আমি আমার সফলতা বলতে চাই না। আমি কী করেছি সেটা বিচার করবে জনগণ।

গত পাঁচ বছরে ৬০০ কোটি টাকার মতো কাজ হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার মতো সরকার ও বাকি টাকা বিদেশি সংস্থার অনুদানে হয়েছে। তবে এখনো অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। আবার অনেক কাজ চলমান। ৯ তলাবিশিষ্ট বহুতল নগর ভবন হচ্ছে। ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাবুরাইলের খাল সৌন্দর্যের কাজ চলমান।
 
আইভী আরো বলেন, গত পাঁচ বছর ও এর আগে পৌরসভার ৮ বছর এ ১৩ বছরে আমি এক মুহূর্তের জন্যও থেমে থাকিনি। আমার বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র, অনেক অপপ্রচারের পরও কাজ করেছি জনগণের কল্যাণে।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠকে তিনি সবাইকে নৌকা প্রতীকে কাজ করতে বলেছেন। আমি আশা করি সবাই এখন নৌকা প্রতীকেই আছেন। তবে আমি যখন এখানে ব্রিফিং করছি তখনো আমি মেয়র সেহেতু এখানে নেতাকর্মী আসাটা বোধগম্য নয়। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যে যার মত কাজ করছেন। আশা করি অচিরেই সবাই ঐক্যবদ্ধ হবো।

আইভী জানান, তিনি বুধবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। অচিরেই হয়তো এখানে কাউকে নিয়োগ দিতে পারে।
 
আচরণ বিধি লঙ্ঘনে বিএনপি প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইভী বলেন, আমি কোনো আচরণ বিধি লঙ্ঘন করিনি। যদি এমন হতো আমি প্রচারণায় সরকারি গাড়ি কিংবা সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন ব্যবহার করেছি তাহলে সেটা লঙ্ঘন হতো। আর এখনো তো লেভেল প্লেয়িংয়ের সময় আসেনি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দের পর এ ব্যাপারে কথা হবে।
 
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৪ নভেম্বর, বাছাই ২৬ ও ২৭ নভেম্বর আর প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৪ ডিসেম্বর। সবশেষ ২২ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

মো: শাহাদাত হোসেন/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।