‘গাত দেবার তেমন কাপড় নাই’


প্রকাশিত: ১১:১৩ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৬

চারদিকে চলছে নবান্ন উৎসব। শীতের বার্তা দিতে শুরু করেছে প্রকৃতি। ভোরে পড়ছে কুয়াশা। তবে তেমন ঠাণ্ডা না থাকায় গরম কাপড়ের দোকানে নেই সাধারণ মানুষের ভিড়। এতে খোলাবাজারের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে।

গরম-ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে বাড়ছে শিশু রোগের প্রাদুর্ভাব। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমরসহ ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকার দুই শতাধিক চর ও দ্বীপ চরের চার লাখ মানুষ।

যাত্রাপুরের ঝুনকার চরের দিনমজুর রমজান আলী বলেন, ‘গেল কার্তিক মাসে হাতে তেমন কাজ না থাকায় শীতের কাপড়-চোপড় কেনা হয়নি। কয়েকদিন ধরে ধান কাটা শুরু হওয়ায় দিন ভালো যাচ্ছে। আরেকটু ঠাণ্ডা পড়লে শীতের কাপড় কেনা শুরু করবো।’

winter

একই এলাকার মোবারক হোসেন বলেন, ‘হাতে তেমন কাজ-কর্ম না থাকায় বাহে হামরা শীতের কাপড় কিনবের পাই না। যেমন শীত পড়ে তেমন কাপড় কিনি। আর খুব ঠাণ্ডা পড়লে পোলাপাইন নিয়ে খড় জ্বালায়ে শীত পার করি।’

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের বৃদ্ধা আমেনা বেগম বলেন, ‘হামরা বুড়া মানুষ। গাত দেবার তেমন কাপড় নাই। আয় রোজগারও নাই। খামো না ঠাণ্ডা কাপড় নেমো। মাইনষে কম্বল দিয়ে যদি সাহায্য করে তাইলে শীত পার করমো। না হইলে আগুন জ্বালায়ে ঠাণ্ড ভাগামো।’

এদিকে, অগ্রহায়ণ মাসেও তেমন শীত না পড়ায় বিপাকে পড়েছেন কুড়িগ্রাম শহরের নছর উদ্দিন মার্কেট, অস্থায়ী খোলাবাজার খলিলগঞ্জ, জজকোর্ট মোড়, শাপলা চত্বরের ব্যবসায়ীরা।

নছর উদ্দিন মার্কেটের ব্যবসায়ী রানা জানান, এখন শীত না থাকায় তেমন বিক্রি নেই। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় হচ্ছে না। এবারে শীতের কাপড় বিক্রি করার মার্কেট শহরের আনাচে-কানাচে হওয়ায় আরো বিক্রি কমেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে পুরাতন কাপড়গুলো তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান থেকে আসে। আমরা চিটাগাং,সৈয়দপুর এবং রংপুর থেকে এসব মাল নিয়ে আসি। কিন্তু এ বছর এমন বিক্রি যে আসল টাকা তোলা নিয়ে শঙ্কায় আছি।

Kurigram

একই বাজারের আদব বস্ত্রালয়ের বিক্রেতা সবুজ জানান, গতবার এই সময় ৮ গাড্ডি মাল বিক্রি হয়েছে। প্রতিদিন ৫-৭ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি হতো। কিন্তু এবার চার গাড্ডি মাল নিয়ে আসা হয়েছে এখনও শেষ হয়নি। বিক্রিও কম হচ্ছে।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আল-আমিন মাসুদ জানান, একসঙ্গে গরম-শীত আবহাওয়া শিশুদের জন্য নানা সমস্যা সৃষ্টি করে। এই সময়টা শিশুদের সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এ সময়ে অভিভাবকদের খুব সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

ত্রাণ শাখা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে ২২ হাজার ৫৫পিস কম্বল ৯ উপজেলায় দেয়া হয়েছে। যা বিতরণের  প্রক্রিয়া চলছে।এছাড়াও চাহিদা মোতাবেক ৩০হাজার পিস কম্বল এবং ১০হাজার শিশুদের পোষাক চেয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আগামী দু্-একদিনের মধ্যে সেগুলো পাওয়া যাবে। এরপর তালিকা করে সেগুলো বিতরণ করা হবে।

শীতের প্রস্তুতি সম্পর্কে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, কুড়িগ্রামের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাদা দৃষ্টি রয়েছে। শীতে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করার জন্য সরকারের নির্দেশনা সঠিকভাবে পালন করতে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছি। আশা করছি এবারের শীতে সাধারণ মানুষের তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

এনএইচ/আরএআর/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।