গোবিন্দগঞ্জে গ্রেফতার আতঙ্কে ৯ গ্রাম পুরুষশূন্য


প্রকাশিত: ০৩:৫০ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ ও সাঁওতালদের করা দুই মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে ৩ ইউনিয়নের ৯ গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। তবে তারা কে কোথায় আছে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

এর আগে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে পুলিশ এবং সাঁওতালপল্লীর পক্ষ থেকে হামলার ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অনেকেই গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।  

জানা যায়, পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্কে ইতোমধ্যে সাপমারা, কাটাবাড়ি ও গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের চক রহিমাপুর, মাদারপুর, নরেঙ্গাবাদ মেরি, নাছিরাবাদ, তরফকামাল, রামপুরা, সাপমারা, কাটাবাড়ি ও গুমানিগঞ্জ গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে যায়।

ফলে আমন ধান কাটার এই নবান্ন মৌসুমে জমিতে ধান পাকলেও পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্কে মানুষ ধান কাটতে পারছে না। এ কারণে অনেকের পাকা ধান জমিতে ঝরে পড়ছে। এতে চলতি মৌসুমে ওসব গ্রামের কৃষকরা খাদ্য সংকটে পড়বে বলেও আশংকা করা হচ্ছে।

বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দুটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক গ্রামের ২৫ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারমধ্যে পুলিশের দায়ের করা মামলায় ৪ জন সাঁওতাল ও সাঁওতালদের দায়ের করা মামলায় ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ৭ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল গফুর বাদী হয়ে পুলিশের উপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৫০ জনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলাটি করা হয়।

ঘটনার ১১ দিন পর গত ১৬ নভেম্বর রাতে সাঁওতালদের উপর হামলা ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার মুয়ালীপাড়া গ্রামের সমেস মুরমুরের ছেলে স্বপন মুরমু বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় পাঁচ থেকে ছয়শ জনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

পুলিশ সাঁওতালদের মামলায় পার্শ্ববর্তী কয়েক গ্রাম থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেফতার করেছেন। এমনকি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় এবং এলাকার বাইরের লোকজনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ সাঁওতালদের।

এদিকে বুধবার দুপুরে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারদের মধ্যে কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী রয়েছেন বলে দাবি করেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকারের সঙ্গে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাঁওতালদের মামলার পর প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে কেউ বিএনপি নেতাকর্মী রয়েছেন কিনা তা দেখার বিষয় নয়। এছাড়া নিরাপরাধ কেউ যাতে গ্রেফতার বা হয়রানি না হয় সে বিষয়ে পুলিশ সজাগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত: ৬ নভেম্বর সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের শ্রমিক-কর্মচারী পুলিশ পাহাড়ায় আখ কাটতে যায়। পরে তাদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে তিন সাঁওতাল নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়। সাঁওতালদের ছোড়া তিরবিদ্ধ হয়ে ৮ পুলিশ আহত হয়।

জিল্লুর রহমান পলাশ/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।