গাইবান্ধায় এমপিসহ ৬শ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:২২ এএম, ২৬ নভেম্বর ২০১৬

এমপি ও ইউএনওসহ অজ্ঞাতনামা ৫০০/৬০০ জনকে আসামি করে সাঁওতালদের পক্ষ থেকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় আরও একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ, তাদের ওপর হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় এ মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার ২০ দিন পর সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির পক্ষে থমাস হেম্রব্রন বাদী হয়ে শনিবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়।

গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আল মো. নাজমুল আহমেদ এটি গ্রহণ করেছেন।

এসময় থমাস হেম্রব্রনের সঙ্গে মানবাধিকার সংস্থা, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, নিজেরা পারি, ব্লাস্ট ও এএলআরডির ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগে ৩৩ জন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা ৫০০/৬০০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে গাইবান্ধা-৪ আসনের(গোবিন্দগঞ্জ) সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হান্নান, রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল আউয়াল, সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাকিল আহম্মেদ বুলবুল ও কাটাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করীম রফিকের নাম রয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাঁওতালদের ওপর হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার ঘটনায় থমাস হেম্রব্রনের লিখিত অভিযোগ নেয়া হয়েছে। তদন্তও শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।

এর আগে ঘটনার ১১ দিন পর ১৬ নভেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের পক্ষে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার মুয়ালীপাড়া গ্রামের সমেস মুরমুরের ছেলে স্বপন মুরমু বাদী হয়ে অজ্ঞাত পাঁচশ থেকে ছয়শ জনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় এ পর্যন্ত পুলিশ ২১ জনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।

কিন্তু মামলার পর গোবিন্দগঞ্জসহ সাঁওতালপল্লীতে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আদিবাসী সাঁওতালদের পক্ষে মামলা দায়েরকারী স্বপন মুরমু নামের ওই ব্যক্তি সাঁওতালদের ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির কোনো নেতা নন।

তিনি পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর জেলা সংলগ্ন ঘোড়াঘাট এলাকার মুরালীপাড়া গ্রামের প্রকৃত বাসিন্দা বলে সাঁওতাল নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে এখন বলা হচ্ছে। সাঁওতালদের ধারণা, বিশেষ প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রক্ষায় তাকে দিয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এ নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাসহ গোটা জেলায় তোলপাড় শুরু হয়। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালরা মামলার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রসঙ্গত, গত ৬ নভেম্বর সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের শ্রমিক-কর্মচারীরা পুলিশ পাহারায় আখ কাটতে গেলে তাদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে তিন সাঁওতাল নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষে সাঁওতালদের ছোড়া তীরবিদ্ধ হয়ে ৮ পুলিশ আহত হয়। সংঘর্ষের পর পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাঁওতালদের কয়েকশ ঘর ভাঙচুর করে আগুনে পোড়ানো হয়।

জিল্লুর রহমান পলাশ/আরএআর/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।