সাত খুন : তারেক সাঈদের পক্ষে যুক্তিতর্ক মুলতবি
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার অন্যতম আসামি র্যাব ১১-এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদের পক্ষে যুক্তিতর্ক আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
তারেক সাঈদের পক্ষে আইনজীবীর যুক্ততর্ক দীর্ঘসময় নেয়ার ফলে সমাপ্ত করতে না পরায় সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন আদালত।
বেলা ১টা ২৫ মিনিট থেকে তারেকের উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
এর আগে আদমজী নগর র্যাব-১১ এর চাকরিচ্যুত সাবেক অধিনায়ক মেজর আরিফ হোসেনের পক্ষে তার আইনজীবী অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছেন। একই দিন প্রধান আসামি নূর হোসেনের প্রধান হিসাবরক্ষক আলী মোহাম্মদ, প্রধান দেহরক্ষী গোলাম মোর্তুজা চার্চিল, হিসাবরক্ষক সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক আবুল বাশার, নৌ-পথের চাঁদাবাজ মিজানুর রহমান, কনস্টেবল বাবুল হাসান ও পলাতক শাহাজহান, জামাল উদ্দিনের পক্ষে অ্যাড. রশিদ ভুইয়া ও অ্যাড. উম্মে হাবিবা (মুক্তা) যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। তাদের পর তারেক সাঈদ মোহাম্মদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। এ নিয়ে ৩৫ আসামির মধ্যে ২৩ জন আসামির আইনজীবীরা তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটির দায়ের করা মামলার এজাহার থেকে প্রথমে আইনজীবী সুলতানুজ্জামান যুক্তি তুলে ধরেন। পরে পর্যায়ক্রমে কয়েকজন সাক্ষীর দেয়া জবানবন্দি তুলে ধরে তারেক মোহাম্মদ সাইদকে নির্দোষ দাবি করে যুক্তি দেখান। এসময় তারেক মোহাম্মদ সাইদকে আসামিদের কাঠগড়ায় মাথা নেড়ে আইনজীবীর যুক্তিকে সমর্থন করতে দেখা গেছে।
আদালতের পিপি এসএম ওয়াজেদ আলী খোকন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদমজী নগর র্যাব-১১ এর চাকরিচ্যুত সাবেক অধিনায়ক মেজর আরিফ হোসেনের পক্ষে তার আইনজীবীর অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। একই দিন ৭ আসামির যুক্ততর্ক গ্রহণ করেছেন আদালত এবং একজনের যুক্তিতর্ক চলমান অবস্থায় মুলতবি রেখেছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ফের যুক্তিতর্ক গ্রহণ শুরু হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করেন র্যাব-১১ এর বিপদগামী সদস্যরা। এরপর হত্যা শেষে ইট বেঁধে প্রত্যেকের মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবিয়ে দেয়া হয়। পরে একে একে প্রত্যেকের মরদেহ ভেসে ওঠে।
এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় প্রথমে বাদী হয়ে একটি মামলা করেন নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং পরে আরো একটি মামলা করেন নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। দুটি মামলার অভিযোগপত্র অভিন্ন ৩৫ জন করে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ২৩ জন গ্রেফতার এবং ১২ জন এখনো পলাতক।
শাহাদাত হোসেন/এআরএ/পিআর