না.গঞ্জে চেয়ারম্যানকে মারধর : সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে সরকারি কাজে বাধাসহ ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামানকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে তার সমর্থকরা।
বিক্ষুব্ধরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা একটি বহুতল ভবন ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর করে।
এর আগে চেয়ারম্যান সমর্থকরা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ফতুল্লা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়।
সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক ও ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়।
এদিকে, সরকারি দলের চেয়ারম্যানের উপর হামলারকারীদের গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আল্টিমেটাম দিয়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ। ঘটনাস্থলে এসে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী এই আল্টিমেটাম দেন।
জানা গেছে, ফতুল্লার পঞ্চবটি হতে ধর্মগঞ্জ পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে। পঞ্চবটি এলাকাতে আব্দুল গফুর ম্যানশন নামের একটি বহুতল ভবনের সামনের ড্রেনের অংশ নির্মাণ মালিকপক্ষ গত দুইদিন আগে এনায়েতনগর পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামানকে কাজের বাধা দেয়। এতে চেয়ারম্যান তাদের বাধা না শুনে ড্রেনের কাজ চালিয়ে আসছিল।
গফুর মার্কেটের মালিক ওলা মাসুদ ও পিপুল সরকারী কাজে বাধা দেয়ার ফলে নির্মান কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এই নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে মার্কেট মালিকপক্ষের সঙ্গে মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
সোমবার দুপুরে চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ হতে পঞ্চবটি আসার পথে মার্কেট মালিক মাসুদ, পিপুলসহ কয়েকজন মিলে তাকে মারধরসহ লাঞ্ছিত করে। তারই প্রতিবাদে সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
চেয়ারম্যানকে মারধরের খবরে লোকজন বিকেল সোয়া ৩টা হতে সোয়া ৪টা পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে সড়কে টায়ার ও গাছের গুড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা গফুর ম্যানশনে বাইরে থেকে ইটপাটকেল ছুঁড়ে ভাঙচুর করে। এরপর তারা ফতুল্লা মডেল থানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখায়।
আসাদুজ্জামান জানান, দুপুর আড়াইটায় তিনি এনায়েত নগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে মোটরসাইকেল যোগে পঞ্চবটি আসার সময় ওই ভবনের মালিক মাসুদ ওরফে ওলা মাসুদ ও পিপুলসহ কয়েকজন গতিরোধ করে মারধর করে। পরবর্তীতে আমি থানায় যায়।
তিনি আরো জানান, পিপুল গত কয়েকদিন আগে থেকে তাদের ভবনের সামনে দিয়ে রাস্তার ড্রেনের নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে আসছিল। তাদের ভবনের সামনে দিয়ে ড্রেন করতে দিবে এমনটাই হুমকি দেয়া হয়। সরকারি কাজে কেন বাধা দেয়া হচ্ছে এমন কথা বলার পর নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। সোমবার দুপুরে পঞ্চবটিতে আমাকে একা পেয়ে পিপুল, মাসুদসহ আরো কয়েকজন মিলে আমার উপর হামলা চালায়।
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী জানান, পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে জড়িতদের গ্রেফতার করতে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। অন্যথায় আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দিবো।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পিপল হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, আমাদের ভবনের জায়গা দখল করে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছিল। আমরা বাধা দেয়ায় প্রথমে আমাদের মারধর করা হয়। তখন চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমাদের বাকবিতণ্ডা হলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরে চেয়ারম্যানের লোকজন ইটপাটকেল ছুঁড়ে আমাদের ভবন ভাঙচুর করেছে।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শরফুদ্দিন জানান, ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসে বিকেল সোয়া ৪টায় অবরোধকারীরা রাস্তা থেকে সরে যায়। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
শাহাদাত হোসেন/এআরএ/পিআর