১৬ বছর ধরে বন্ধ উমেশ চন্দ্র স্মৃতি গ্রন্থাগার


প্রকাশিত: ০৪:২৪ এএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৬

৭৬ বছরের পুরনো গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা উমেশ চন্দ্র স্মৃতি গ্রন্থাগার ১৬ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। অযত্ন ও অবহেলার কারণে গ্রন্থাগারের মূল্যবান বিভিন্ন বই পুস্তক, সঙ্গীতের সরঞ্জাম ও আসবাপত্র দিনদিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া গ্রন্থাগারটি সংস্কার ও নজরদারীর অভাবে সাহিত্য চর্চার এ কেন্দ্র অবকাঠামোগত দিক বিলিনসহ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিন ও এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, নলডাঙ্গার জমিদার পরিবারের সন্তান তুলশী লাহিড়ী ছিলেন সাহিত্য অনুসারী ও সংস্কৃতি মনা ব্যক্তি। মানুষের মনুষ্যত্বকে সজাগ ও সচেতন করে গড়ে তুলতে প্রয়োজন সু-শিক্ষার। তাই শিক্ষা গ্রহণ করতে মানুষের মনের খোরাক যোগায় সাহিত্য ও সংস্কৃতি।

সেই সময়ে সাড়া জাগানো তুলশী লাহিড়ীর সাহিত্য নিয়ে এলাকায় সাহিত্য চর্চার প্রয়োজন অনুভব করেন অনেকে। সাহিত্য চর্চার প্রয়াস বৃদ্ধি করতে জমিদার পরিবারের শিশির লাহিড়ীর বংশধর ভবানী প্রসন্ন তালুকদারের বাবা উমেশ চন্দ্র এর নামে ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় উমেশ চন্দ্র স্মৃতি গ্রন্থাগার।

পরে ১৯৪১ সালে ১০ মার্চ স্থানীয়দের নিয়ে ৩১ সদস্যর একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়। উক্ত পরিষদের সমন্নয়ে ও আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা পরিষদের জমিতে সেই সময়ে একটি ইট সুরকি দিয়ে ঘরও নির্মাণ করা হয়। প্রথমে ওই ঘরেই অর্ধশতাধিক পাঠক নিয়ে সাহিত্য চর্চা শুরু করা হয়।

তখন থেকে ওই গ্রন্থাগারে প্রতিদিন এলাকার শত শত পাঠকরা সাহিত্য চর্চা করতেন। এক সময়ে ওই গ্রন্থাগারটি এলাকায় সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করছিল বলে জানা যায়।

তারা আরও জানান, স্বাধীনতার পর স্থানীয় জনসাধারণের সাহিত্য চর্চার প্রসার ঘটাতে আরো ব্যাপকভাবে ওই ঘরটি সকলের সহযোগিতায় বড় করা হয়। গ্রন্থাগারটি ছিল অনেক গ্রন্থাগারের চেয়ে খ্যাতনামা। গ্রন্থাগারে শুধু সাহিত্য চর্চাই হয়নি এখানে পুরনো পত্রিকা ও বিশেষ দিবসে বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মঞ্চ নাটকসহ বিভিন্ন ধরণের সভা সেমিনারের আয়োজন ছিল। কিন্তুু গ্রন্থাগারের সকল কার্যক্রম ও জনসাধারণের সাহিত্য চর্চা ক্রমেই অজ্ঞাত ভাবে হঠাৎ করে থেমে যায় ২০০০ সালে।

সেই সময়ের তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেন ৫০ হাজার টাকা। ওই টাকার বরাদ্দ ছিল বই ক্রয় ও ভবন মেরামতের জন্য। কিন্তুু বরাদ্দ টাকা দিয়ে গ্রন্থাগারের জন্য সামান্য কাজ করে অল্প দিনে বন্ধ হয়ে যায়। পরে দিনদিন অযত্ন ও অবহেলার কারণে গ্রন্থাগারের মূল্যবান লাল মোরক উম্মাচিত বিভিন্ন ধরণের বই পুস্তুক, সঙ্গীতের সরঞ্জাম ও আসবাপত্র চুরি হয়ে যায়।

ফলে স্থানীয়ভাবে আর কখনো গ্রন্থাগার সংস্কার করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি স্থানীয় প্রশাসন ও সাহিত্য চর্চার বিকশিত কেন্দ্রের অবকাঠামোগত দিক নজরদারীর অভাবে বিলিন হয়ে যাচ্ছে।

প্রখ্যাত সাহিত্যিক তুলশী লাহিড়ীর স্মৃতি বিজড়িত গ্রন্থাগারটি পুনরায় চালুর ব্যাপারে স্থানীয় কোনো সাহিত্য চর্চার মনোনিবেশ ব্যক্তি এসে সাহিত্য চর্চার পথ সুগম ও সংস্কৃতি পূর্ন উত্থানে এগিয়ে আসার আহ্বান উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের।

এরআগে, ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে সাদুল্যাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি গ্রন্থাগারের জন্য ৫০ হাজার টাকার বরাদ্দ দেয়। কিন্তু বরাদ্দের টাকা পেয়েও গ্রন্থাগ্রারটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তরিকুল ইসলাম নয়ন জানান, গ্রন্থাগারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে। সংস্কার মেরামত বা পূর্ণ উত্থানের জন্য সরকারি-বেসরকারিভাবে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে এলাকার বিভিন্ন পেশার মানুষ ও তরুণরা আজ সাহিত্য চর্চা থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি গ্রন্থাগারের জন্য বই, পুস্তক ও মুল্যবান সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা চান।

জিল্লুর রহমান পলাশ/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।