পিরোজপুরে ১৬ জরাজীর্ণ ইউপিতে চলছে কার্যক্রম
পিরোজপুরে অন্তত ১৬ ইউপি ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বহুদিন আগে এসব ভবন তৈরি হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের পক্ষে ইউনিয়নবাসীকে দৈনন্দিন সেবা দানে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে নতুন দোতলা ইউপি ভবন থাকা সত্ত্বেও সেখানে পরিষদের কোন কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় সেগুলো অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কক্ষগুলো তালা বদ্ধ থাকায় মেঝে, জানালা দরজা ও ওয়ালগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
জেলার সাতটি উপজেলায় ৫১টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের মধ্যে নতুন ভবন ৩৩টি আর পুরাতন একতলা ভবন ১৮টি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে জনগণের কাছে প্রার্থীদের দেয়া ইউপি ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও নির্বাচনের পরে সে প্রতিশ্রুতি আর রক্ষা করা হয় না।
ফলে নানা সঙ্কটের মধ্যে স্থানীয় জনগণের মাঝে কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছে দিতে জনপ্রতিনিধিরা ব্যর্থ হচ্ছেন। জেলার একমাত্র কাঠের তৈরি কাউখালী সদর ইউপি কার্যালয়টি ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনো একই চিত্র বিরাজ করছে। 
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিল্টন জানান, ভবন নির্মাণের জন্য একবার বরাদ্দ আসলেও সেই বরাদ্দ জায়গার অভাবে ফেরত চলে গেছে।
একতলা বিশিষ্ট জরাজীর্ণ এসব পরিষদে রয়েছে অপর্যাপ্ত আসবাবপত্র। বর্ষা কিংবা ঝড়ো হাওয়া এলেই ছাদ ও ভাঙা জানালা দরজা দিয়ে পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান ফাইলপত্র। কিছু ইউপিতে চুরির ঘটনাও ঘটছে।
জনসাধারণের মাঝে সার্বক্ষণিক তথ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হওয়ায় কম্পিউটারের মাধ্যমে তথ্য সেবা দেয়া সম্ভব হয়ে উঠছে না। এছাড়া পরিষদে নেই আইপিএসের ব্যবস্থা, রয়েছে সীমিত সংখ্যক ক্ষুদ্রাকৃতির কক্ষ, সেখানে পরিষদের মাসিক বা জরুরি সভা করাও সম্ভব হয়ে ওঠে না।
গোডাউন রুম না থাকায় অরক্ষিত অবস্থায় থাকছে খাদ্য শস্য। ইউপির স্থানীয় বিচার ব্যবস্থা ব্যহত হচ্ছে এজলাশ না থাকায়। আর এ জন্য প্রধান অন্তরায় হচ্ছে অপ্রতুল জায়গা ও আসবাবপত্র।
সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, তার কার্যালয়টি এলাকার সবচেয়ে প্রাচীন ভবন। ভবনটির বিভিন্ন জায়গার পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে গেছে। ভবনের পাশেই রয়েছে বিশাল মূলগ্রাম খাল, খালের ভাঙনে যেকোন সময় কার্যালয়টি বিলীন হয়ে যেতে পারে।
সবগুলো ইউপিতে ‘গ্রাম আদালত’ ব্যবস্থার ওপর সরকারের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও জায়গা সংকীর্ণ ও আসবাবপত্রের অভাবে প্রাথমিক বিচার ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। অতিরিক্ত রুম না থাকায় বিঘ্নিত হচ্ছে গ্রাম পুলিশের দৈনন্দিন কাজ।
এ বিষয়ে কদমতলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. হানিফ খান জানান, দীর্ঘদিনের জায়গা সঙ্কটের কারণে তার পরিষদটি নতুন ভবনে রূপান্তরিত করা যাচ্ছে না। 
তিনি জানান, সরকার কর্তৃক বেঁধে দেয়া ৩৩ শতাংশ জমি থাকা আবশ্যক হলেও সেক্ষেত্রে অনেক ইউপিতে কম সংখ্যক জমি থাকায় নতুন ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছে না। আবার যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ইউনয়নের মধ্যস্থানে পরিষদ স্থাপনের চিন্তা করে জটিলতা তৈরি হওয়ায় অনেক ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছে না।
স্বরূপকাঠি উপজেলার গুয়ারেখা ইউপির প্যনেল চেয়ারম্যান পলি রানী মজুমদার জানান, নতুন ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ ও জায়গা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রয়েছে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। গুয়ারেখা ইউনিয়নের নতুন পরিষদ ভবনটি ইউনিয়নের একেবারে পূর্ব প্রান্তে হওয়ায় সেখানে এখন কোনো মানুষ যেতে না চাওয়ায় পরিষদের কোন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে না।
ফলে সেটি এখন অযত্ন ও অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ওই ইউনিয়নের বাটনাতলা বাজারে একতলা বিশিষ্ট ক্ষুদ্রাকৃতির একটি ভবনে বর্তমানে পরিষদের কর্মকাণ্ড চলছে। এ পরিষদটি ইউনিয়নের পুরাতন ও মধ্যস্থানে এবং যোগাযোগের সুবিধার কারণে সবাই এখানে আসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে বলে জানান এ জনপ্রতিনিধি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সেখ জানান, একতলা বিশিষ্ট পুরাতন ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৩ থেকে ৪টিতে নতুন ভবনের কাজ চলছে। জায়গার স্বল্পতা ও জমি বিরোধের কারণে নতুন ইউপি ভবন নির্মাণ বিলম্বিত হচ্ছে।
পিরোজপুরের যেসব ইউনিয়নে নতুন কাঠমোর ইউপি ভবন (টাইপ বিল্ডিং) নির্মিত হয়নি সরকারের কাছে ওসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। বিরাজমান সঙ্কট নিরসনে স্থানীয় সরকারের হাতকে শক্তিশালী করতে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা।
হাসান মামুন/এএম/এমএস