গৃহবধূ তাজকেরা এখন ‘মডেল’


প্রকাশিত: ০৫:০৫ এএম, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৬

বাড়ির আশপাশে সবজি চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন গৃহবধূ তাজকেরা। এক সময় অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করলেও এখন সবজি চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা আসায় পাঁচ সদস্যের ভরপোষণ নিয়ে আর চিন্তা নেই। সারা বছর বিভিন্ন রকম সবজি চাষ করে তাজকেরা এখন ওই এলাকায় মডেলে পরিণত হয়েছেন।

জেলার সাপাহার উপজেলার গোয়ালা ইউনিয়নের শিয়ালমারী গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের গৃহবধূ তাজকেরা। দুই যুগ আগে তাজকেরার ওই গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর আমানুর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে।

বড় ছেলে আনারুল ইতোমধ্যে বিয়ে করে পৃথক সংসার পেতেছেন। দ্বিতীয় ছেলে জুয়েল অভাবের তাড়নায় লেখাপড়া বন্ধ করে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। ছোট ছেলে আবু তাহের (১০) মানসিক প্রতিবন্ধী এবং মেয়ে খায়রুন (৭) বেসরকারি সংস্থার প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে।

কয়েক বছর আগে বেসরকারি সংগঠন বরেন্দ্র ভূমি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা বিএসডিও এবং বিডিওর কর্মীরা এসে গ্রামের হতদরিদ্রদের সঙ্গে কথা বলেন। সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা এবং অসহায় নারীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণের কথা বলা হয়।

তখন গৃহবধূ তাজকেরা ওই সংস্থায় ভর্তি হয়ে হোমটেস্ট গার্ডেনিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর বাড়ির আঙ্গিনাসহ আশপাশে শাকসবজি চাষ শুরু করেন। সে বছর শাকসবজির ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে বিক্রি করে লাভবান হন।

পরের বছর ধারদেনা করে দুই বিঘা জমি বন্ধক নিয়ে সবজি চাষ করেন। বর্তমানে ওই গ্রামের অনেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে দরিদ্র পরিবারের অভাব থেকে মুক্ত হয়ে সচ্ছলতার সঙ্গে জীবন যাপন করছে।

গৃহবধূ তাজকেরা বলেন, এক সময় অভাবী সংসারে টিকে থাকার জন্য বহু সংগ্রাম করতে হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাড়ির আঙ্গিনাসহ বন্ধকি জমিতে শাকসবজি চাষ শুরু করি। প্রায় সারা বছর লালশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, লাউ, কুমড়া, মিষ্টি লাউ, শিম, ঢেঁড়স, শশা, ঝিঙ্গা, বেগুন, মুলা, আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন জাতের সবজির চাষ করা হয়।

আব্বাস আলী/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।