নওগাঁয় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ


প্রকাশিত: ০৪:০৮ পিএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বেলকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখায় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আব্দুর রউফ মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে অফিস সহকারী পদে অসীম চন্দ্র বর্মনকে নিয়োগ দেয়ার জন্য গোপনে রাতে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করে।

ঘটনার পর অন্য পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। টাকা ফেরত দেয়াসহ সভাপতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরীক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, ওই প্রতিষ্ঠানের স্কুল শাখায় সহকারী শিক্ষক (বাংলা) ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে বেলকুড়ি স্কুল প্রাঙ্গনে গত ২৩ ডিসেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আব্দুর রউফ অফিস সহকারী পদের জন্য শ্রী অসীম চন্দ্র বর্মনকে নিয়োগ দেয়ার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করে। ফলে টাকা নেয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়।

এছাড়া একই পদে নিয়োগ পরীক্ষার পূর্বে একাধিক প্রার্থীদের কাছ থেকে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়া হয়। নিয়োগ পরীক্ষার পূর্বে সভাপতি টাকা ফেরত দিতে না পারায় নিয়োগ বোর্ডের সদস্যগণ নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করে চলে যায়। ফলে নিয়োগ বোর্ড বন্ধ থাকে।

এদিকে, বর্তমান কমিটির মেয়াদ চলতি বছরের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত হওয়ায় কমিটির সদস্যগণ দুশ্চিন্তায় পরেন যে বর্তমান কমিটির মেয়াদের মধ্যে আর নিয়োগ দেয়া যাবে না।

সভাপতি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আঁতাত করে সকল মহলকে ম্যানেজ করে গোপনে অবৈধভাবে রাতে অন্য প্রতিষ্ঠান চান্দা আলিপুর স্কুলে শুধুমাত্র যাদের নিয়োগ দিবে তাদের এবং প্রক্সি প্রার্থীদের মোবাইলে ডেকে ওই দিনই নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জোবায়ের হোসেন নামে এক প্রার্থী জানান, নিয়োগ পরীক্ষার পূর্বে সভাপতি টাকা নিয়েছেন। আমাদের টাকা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত নিয়োগ পরীক্ষা দিতে দেয়া হবে না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও সভাপতিসহ এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মোসাজ্জাদ হোসেন জানান, যেহেতু নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তীতে আবারও তারিখ নির্ধারণ করে ফেয়ারভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করার জন্য সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি কামনা করছি।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামসুল আলমের মোবাইলে বার বার ফোন করলেও রিসিভ করেননি।

নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন মন্ডল বলেন, বেলকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের নিয়োগ পরীক্ষার ডিজির প্রতিনিধি আমি হলেও পুরো দায়িত্ব উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে দেয়া আছে। এখনও পরীক্ষার হয়েছে কি না আমি জানিনা এবং কোনো কাগজে সহি স্বাক্ষর করি নাই। নিয়োগে ঝামেলা থাকলে পরীক্ষা বাতিল হবে।  

প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আব্দুর রউফ বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার দিনে ঝামেলা হওয়ায় বিদ্যালয়ে পরিক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি।

পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে দিবে না স্থানীয় এমপি এই জন্য এই ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে। এর বেশি কিছু জানতে চাইবেন না। আর আমি কিছু বলতেও পারবো না।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, নিয়োগ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। আমার সমস্যা আছে, আপনি সভাপতির সঙ্গে কথা বলেন।

আব্বাস আলী/এআরএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।