জালিয়াতির অভিযোগে শিওর ক্যাশের কর্মকর্তাসহ আটক ২
গাজীপুরে রানী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির টাকা স্কুলের হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শিওর ক্যাশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লিখন ও সাজ্জাদ নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে।
রানী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদা খানম জানান, স্কুলের শিক্ষার্থীর টিউশনসহ অন্যান্য ফি সংগ্রহ করে স্থানীয় একটি ব্যাংকে স্কুলের অ্যাকাউন্টে জমা দেয়ার চুক্তি হয় ২০১৫ সালে।
শিওর ক্যাশের টেরিটরি ম্যানেজার মো. সাজ্জাদ হোসেনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা লিটন তালুকদার লিখনকে এনে টাকা সংগ্রহের জন্য আমাদের সঙ্গে পরিচয় করে দেন। তারা তিন মাস পর পর টাকা তুলে ব্যাংকে জমা দিতেন।
ব্যাংকে টাকা জমা হলে ব্যাংক থেকে মোবাইল ম্যাসেজের মাধ্যমে আমাদের জানানো হতো। গত নভেম্বর মাসে তারা এপ্রিল-জুন, জুলাই-সেপ্টেম্বর কিস্তির শিক্ষার্থীদের পেইড-আনপেইড তালিকা দেয়। পরে আমরা আনপেইড টাকা সংগ্রহ করতে শিক্ষার্থীদের তাগাদা দিয়ে জানতে পারি শিক্ষার্থীরা তাদের পাওনাদি পরিশোধ করেছে।
বিষয়টি নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১৮-১৯ ডিসেম্বর শিওর ক্যাশের এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলমকে টাকা জমা না পড়ার কথা জানানো হয়। ইতোমধ্যে আমাদের টাকা প্রয়োজনের কথা জানালে লিখন আমাদের নগদ দুই লাখ টাকা পরিশোধ করেন, যা আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হতো।
অক্টোবর-ডিসেম্বর কিস্তির কোনো ম্যাসেজও আমরা পাইনি। বছরের শেষে হিসাব করে দেখা গেছে, সর্বশেষ শিওর ক্যাশের নিকট ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা স্কুল পাওনা রয়েছে। তারা আমাদের কাছে কিংবা আমাদের ব্যাংক হিসাবে ওই পরিমাণ টাকা জমা করেনি।
বিষয়টি শিওর ক্যাশের প্রধান কার্যালয়ে জানানো হলে বৃহস্পতিবার প্রধান কার্যালয় থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (সেলস) শফিকুল ইসলাম স্কুলে আসেন। পরে শিওর ক্যাশ কর্তৃপক্ষ লিখন ও সাজ্জাদকে নিয়ে শনিবার স্কুলে হাজির করলে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদশেষে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
শিওর ক্যাশের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের জানান, গাজীপুরে ফাজ্জা ডিস্ট্রিবিউশনের সঙ্গে শিওর ক্যাশের চুক্তি হয়। লিখন ওই ডিস্ট্রিবিউশনে চাকরি করতেন। গত এপ্রিল মাসে লিখন ডিস্ট্রিউিশন থেকে চাকরি ছেড়ে দেন। তারপর তিনি কোনাবাড়ি এলাকার এক এজেন্টের সিম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের টাকা অবৈধভাবে লেন-দেন শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের টাকা তুলে নগদ পরিশোধের শিওর ক্যাশের নিয়ম না থাকলেও লিখন ওই টাকা তুলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নগদ পরিশোধ করেছে। এসব তথ্য তাদের আগে জানা ছিল না। তিনি আরও জানান, দায়িত্ব অবহেলার কারণে সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জয়দেবপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, শনিবার মধ্যরাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাজ্জাত হোসেন ও লিখনকে জয়দেবপুর থানায় নেয়া হয়েছে।
মো. আমিনুল ইসলাম/এএম/জেআইএম