যশোরে বোরো আবাদের ধুম
যশোরের বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠ জুড়ে বোরো আবাদের ধুম পড়েছে। বীজতলা পরিচর্যার পাশাপাশি কৃষকরা জমি তৈরি ও চারা রোপন শুরু করেছেন। এবার যশোর জেলায় ১ লাখ ৫১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হতে পারে। গত মৌসুমে যশোর জেলার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়।
যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া, হাশিমপুর, তাহেরপুর, রামনগরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে বোরো আবাদের কর্মযজ্ঞ। নদীর পাড়ে, খালের ধারে, ট্রেন লাইনের পাশে জমিতে, বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে ধানের কচি চারার সবুজ গালিচা, কোথাও গভীর নলকূপ থেকে চলছে জলসেচ, ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার দিয়ে কোথাও চলছে জমি চাষার কাজ।
সদরের চাচঁড়া ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া এলাকার বিল হরিণায় ধানের পাতো খোলায় কাজ করার সময় কৃষক আতাউর রহমান জানান, এবার তিনি তিন বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করবেন। সেজন্য ৪ কাঠা জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। ইতিমধ্যে ১ বিঘা জমি চাষ সম্পন্ন হয়েছে। দুই একদিনের ভেতরেই চারা বুনবেন।
ভোরের আলো ফুটতেই কোমর বেঁধে ফসলের মাঠে নেমে পড়ছেন যশোর অঞ্চলের কৃষক। বোরো ধান আবাদের জন্য বীজতলা তৈরি করছেন। জমি চাষার কাজও চলছে পুরোদমে। কুয়াশায় ঢাকা শীত সকালে বীজতলায় ধানের চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষীরা। কেউ বীজতলা পানি সেচ দিয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছেন। আর ইতিমধ্যে যারা আবাদি জমি প্রস্তুত করে ফেলেছেন বীজতলা থেকে চারা তুলে লাগিয়ে দিচ্ছেন ক্ষেতে।
বোরো আবাদের প্রস্তুতি হিসেবে এ পর্যন্ত প্রায় ৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এর পরিমাণ সাড়ে ৮ হাজার হেক্টরে গিয়ে পৌঁছবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে প্রায় দুইশ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের যশোর উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্র।
সূত্র অনুযায়ী, গত মৌসুমে যশোর জেলায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছিল। এবার ১ লাখ ৫১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যশোর সদরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, কৃষকরা এখন বোরো আবাদের জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।
মিলন রহমান/এআরএ/এএম