মহেশখালীর অস্ত্রের কারখানা থেকে ২২ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৭:৩০ পিএম, ০৪ জানুয়ারি ২০১৭

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সন্ধান পাওয়া অস্ত্রের কারখানা থেকে ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও চার শতাধিক গুলি উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-৭) সদস্যরা। এ সময় দুই কারিগরকে গ্রেফতার করা হয়।

মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়তলী গ্রাম সংলগ্ন গহিন জঙ্গলে এ অস্ত্র কারখানার সন্ধান পায় র‌্যাব।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার ও কারিগর গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন, বড় মহেশখালী পাহাড়তলী এলাকার মৃত আজম উল­াহর ছেলে মো. আব্দুল মাবুদ (৪০) ও ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের কবির আহম্মদের ছেলে মো. আবু তাহের (৪২)।

বুধবার সন্ধ্যায় র‌্যাব-৭ কক্সবাজার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ক্যাম্প ইনচার্জ লে. কমান্ডার আশেকুর রহমান এসব তথ্য জানান।

উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে, ১৪টি একনলা বন্দুক, ৬টি ওয়ান শুটার গান, ১টি থ্রি কোয়ার্টার বন্দুক, ১টি দেশীয় রাইফেল, ১৭ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, ৪ রাউন্ড .৩০৩ রাইফেলের গুলি, ১ রাউন্ড শর্টগানের গুলির খোসা।

এছাড়া অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত ড্রিল মেশিন, ৩টি বন্দুক তৈরির পাইপ, ১৫টি হেস্কু ব্লেড, ৫টি রেত, ২টি প্লাস, ১টি এয়ার মেশিন, ৫টি ছেনা ও ১টি শান-পাথর উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দীর্ঘদিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা তৎপরতার একপর্যায়ে র্যাব-৭ জানতে পারে, মহেশখালীর বড় মহেশখালী ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়তলী গহিন জঙ্গলে কিছু সংঘবদ্ধ অস্ত্র ব্যবসায়ী ও অস্ত্র তৈরির কারিগর দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অস্ত্র তৈরি করে এলাকায় স্থানীয় সন্ত্রাসী, অস্ত্র ব্যবসায়ী, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা, জলদস্যু, ডাকাতদের কাছে বিক্রি করে আসছে।

এসব অস্ত্র দিয়ে কক্সবাজার, মহেশখালী, চকরিয়া ও আশপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন, মুক্তিপণ, অপহরণ ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এমন  তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গ্রেফতার দুই কারিগর পালানোর চেষ্টা করলে প্রথমে তাদের ধাওয়া করে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে কারখানা থেকে এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রেফতার আব্দুল মাবুদ (৪০) জানায়,  ২০০৬ সালে অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ র‌্যাব-৭ এর কাছে তিনি গ্রেফতার হন এবং ৪ বছর কারাভোগ করেন।

র‌্যাব-৭ এর কক্সবাজার ক্যাম্প ইনচার্জ লে. কমান্ডার আশেক জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে মহেশখালী থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।