সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ২ মাস পূর্তি : বিনোদনের আয়োজন


প্রকাশিত: ১০:৫৫ এএম, ০৬ জানুয়ারি ২০১৭

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে তাণ্ডব-হামলার দুই মাস পূর্তিতে মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ার সাঁওতাল পল্লীতে আশ্রয় নেয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের শিশু-কিশোরদের নিয়ে বিনোদনের আয়োজন করা হয়েছে।

৬ নভেম্বরের তাণ্ডব-হামলার ঘটনা ভুলাতে বগুড়া থেকে আসা তরুণ উদ্যোমী ১০ জন ফেসবুক বন্ধুদের ব্যতিক্রম উদ্যোগে এসব বিনোদনের আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার সকাল থেকে দিনভর মাদারপুর সাঁওতাল পল্লীর একটি মাঠে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা হয়। দিনভর খেলাধুলার মধ্যে ছিল দৌড় প্রতিযোগীতা, ব্যাঙ দৌড়, বিস্কুট দৌড়, মোরগ যুদ্ধ। এছাড়া ছবি আঁকা, তীর ছোড়া প্রতিযোগিতা ও নাচ-গান অনুষ্ঠিত হয়।  

পরে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া বিজয়ী ৫০ শিশুকে পুরুস্কার হিসেবে বিভিন্ন সামগ্রীসহ তাদের হাতে গল্পের বই তুলে দেয়া হয়। এসব প্রতিযোগিতায় মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ার সাঁওতাল পল্লীর প্রায় শতাধিক শিশু-কিশোর অংশ নেয়। এছাড়া সাঁওতাল পল্লীতে আশ্রয় নেয়া সকল নারী-পুরুষ এসব বিনোদন উপভোগ করেন।

দিনভর এসব বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান উপভোগ ও অংশ নিয়ে শিশুর-কিশোররা বিনোদিত হয়। সেই সঙ্গে এসব অনুষ্ঠান হওয়ায় একটু হলেও ৬ নভেম্বরের তাণ্ডবের ঘটনার ভুলতে পেরেছে শিশু-কিশোররা।

GAIBANDHA

এদিকে, সাঁওতালদের উচ্ছেদ ঘটনার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত টিমের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে এসে তদন্ত করেছেন গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল (মুখ্য বিচারিক হাকিম) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রত্যক্ষদর্শী সাঁওতাল সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের জবানবন্দী রেকর্ডভুক্ত করেন।

প্রসঙ্গত, রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ১৯৬২ সালে আখ চাষের জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ১ হাজার ৮৪২ একর জমি অধিগ্রহণ করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ওইসব জমিতে মিল কর্তৃপক্ষ আখ চাষ না করে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর কাছে লিজ প্রদান করে। তারা লিজ নেয়ার পর ওই সব জমিতে তামাক, ধান, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করতে থাকে। এছাড়া এসব জমিতে ১২টি পুকুর খনন করে মাছ চাষ করছে প্রভাবশালীরা।

এদিকে, মিলের জমিতে আখ চাষ না হওয়ায় দুই বছর আগে এসব জমি বাপ-দাদার জমি ফেরত দেবার কথা বলে প্রভাবশালী নেতারা এসব সাঁওতাল সম্প্রদায়ের অসহায় লোকজনকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করে। নভেম্বরের ৬ তারিখে পুলিশ-ইক্ষু শ্রমিক ও সাঁওতালদের সঙ্গে ত্রি-মুখী সংঘর্ষে তিন সাঁওতালের মৃত্যু হয়। আহত হয় পুলিশসহ ৩০ জন। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ও সাঁওতালদের পক্ষ থেকে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়।

জিল্লুর রহমান পলাশ/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।