সীমান্ত পথে বিস্ফোরক আসছে সিলেটে


প্রকাশিত: ১১:৫১ এএম, ২১ মার্চ ২০১৫

সিলেটে নাশকতায় ব্যবহৃত হচ্ছে ভারতীয় বিস্ফোরক দ্রব্য। এগুলো সীমান্ত পথে সিলেটে আসছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল দলের চোখ ফাঁকি দিয়ে চোরাচালান চক্র কানাইঘাট , জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়েই এসব বিস্ফোরক দ্রব্য পাচার করছে।

সীমান্তের একাধিক সূত্র ও গোয়েন্দা রিপোর্টে জানা গেছে, সিলেটে ২০ দলের আন্দোলনে বেশিরভাগই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটছে। তাই সিলেটে নাশকতায় ককটেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

দেশের ভেতরে ককটেল তৈরিতে কড়াকড়ি থাকায় সিলেটের রাজনীতিকদের কাছে ভারতীয় ককটেলের চাহিদা বেশি। সিলেটের রাজনৈতিক মদদপ্রাপ্ত চোরাকারবারিরা জৈন্তা ও কানাইঘাট সীমান্ত পথে সিলেটে নিয়ে আসছে বিস্ফোরক দ্রব্য।

সিলেট সীমান্তের ওপারে কিছু স্থানে ককটেল বানানো হচ্ছে। সেখান থেকেই রাতের আঁধারে গরু চোর, ভারতীয় মদের কারবারিদের সঙ্গে বিস্ফোরক নিয়ে ঢুকে পড়ছে অস্ত্র চোরাচালানিরা। বিজিবির সতর্ক পাহাড়া থাকার পরও ককটেল পাচারে ভালো টাকা পাওয়ায় ঝুঁকি নিচ্ছে চোরাকারবারিরা।

বর্ডার পার হয়েই সড়ক পথ ব্যবহার করছে ওই চক্রটি। তারা সাধারণ যাত্রী সেজে বাসে করে জাফলং থেকে জৈন্তা হয়ে সিলেট নগরীতে আসছে। সিলেট নগরীতে এসে সরাসরি এরা রাজনীতিকদের ককটেল এজেন্টদের কাছে যায় বলে জানা গেছে।

ককটেল দিয়ে টাকা নিয়ে আবার সীমান্তে ফিরে যাচ্ছে। একইভাবে কানাইঘাট সীমান্ত দিয়েও সিলেটে আসছে শক্তিশালী বিস্ফোরক। বিজিবি ও পুলিশ ইতোমধ্যে একটি বড় চালান পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিয়ে বোমা বিশেষজ্ঞ টিম ও গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করছে।

জৈন্তা পুলিশ জানায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিজিবি অভিযান চালিয়ে শ্রীপুর ক্যাম্পের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে যাত্রীবাহি মিনিবাস ( সিলেট-ব-১১-০৩২৬) তল্লাশি করে একটি ব্যাগে রাখা শক্তিশালী ৮ টি ককটেল উদ্ধার করে। তবে, পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

এভাবেই যাত্রী সেজে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা ব্যাগে করে ককটেল নিয়ে সিলেট আসছে। ধরা পড়ছে কদাচিৎ এক-দুটি চালান।

গত ১৫ মার্চ কানাইঘাট থানা পুলিশ গোপন সংবাদ পেয়ে দিঘীরপাড় ইউনিয়নের হাওড়ের একটি ঝোঁপঝাড় থেকে বস্তাবন্দি শক্তিশালি বিস্ফোরক উদ্ধার করে। এর মধ্যে আছে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ৮ টি শক্তিশালি ডেটোনেটর, ৮টি এক্সপ্লোসিভ নিওজেল-৯০।

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল জানান, এগুলো তৈরি করা হয়েছে ভারতের আমিন এক্সপ্লোসিভ প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি এক্সপ্লোসিভ প্রতিষ্ঠানে। রাজনৈতিক নাশকতায় ব্যবহারের জন্য এগুলো সীমান্ত পথে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। কারা এর সাথে জড়িত তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আর বিস্ফোরকগুলো পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, সীমান্ত পথে বিস্ফোরক উদ্ধারের পর এলার্ট হয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি সীমান্তে কড়া নজরদারি রাখার জন্য গোয়েন্দা দলও কাজ করছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মেজর আব্দুর রহমান জানান, ‘দেশে রাজনৈতিক নাশকতার জন্য এগুলো আনা হচ্ছে। কারা জড়িত তা উদঘাটনে কাজ করছে বিজিবি।’

এমজেড/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।