বে-ক্রুজের যাত্রা বাতিলে সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের দুর্ভোগ
যাত্রাকালীন সময়ে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলে সেন্টমার্টিন যাওয়া বাতিল ঘোষণা করে পর্যটকবাহী জাহাজ বে-ক্রুজ। ফলে জাহাজের কয়েকশ পর্যটক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এ নিয়ে অনেক পর্যটক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার সকালে প্রায় কয়েকশ যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনদ্বীপে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় বে-ক্রুজ জাহাজটি। নির্দিষ্ট সময়ের আগে সবাই জাহাজে উঠে অপেক্ষা করতে থাকেন। এ সময় মেশিনে ত্রুটির কথা বলে যাত্রা বাতিল করে জাহাজ কর্তৃপক্ষ।
তাৎক্ষণিক কিছু যাত্রী কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন, কেয়ারি সিন্দাবাদসহ ভিন্ন জাহাজে সেন্টমার্টিনদ্বীপে গেলেও কয়েক’শ পর্যটক ভগ্নমনে দমদমিয়া ঘাটে থেকে যান। এতে অর্থ ও সময় অপচয়ের পাশাপাশি তাদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক পর্যটক।
সিলেট থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আসা মোজাম্মেল বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি। সেন্টমার্টিনদ্বীপে যাব। কিন্তু বে-ক্রুজ জাহাজের যাত্রা বাতিলের কারণে আর যাওয়া হল না। তাই ফিরে যাচ্ছি। আবার কখন কক্সবাজার বা টেকনাফ-সেন্টমার্টিন আসব সেটি বলতে পারছি না।
কেয়ারি সার্ভিসেস লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, প্রথমে বে-ক্রুজের শতাধিক যাত্রী কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন’র মাধ্যমে যাওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে তাদের ২০ জন পর্যটক পাওয়া যায়। ফলে সময় স্বল্পতার কারণে অপেক্ষা না করে তাদের নিয়েই জাহাজটি সেন্টমার্টিনদ্বীপে রওয়ানা দেয়।
টেকনাফ টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ (পরিদর্শক) জাকের হোসেন বলেন, যাত্রী কম হওয়ায় বে-ক্রুজ যাত্রা বাতিল করেছে। এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে কিছু যাত্রী অন্য জাহাজ নিয়ে সেন্টমার্টিন গেছেন।
বে-ক্রুজ জাহাজের সেন্টমার্টিন কাউন্টারের দায়িত্বশীল আবুল কালাম জানান, মেশিনে ত্রুটি দেখা দেয়ায় জাহাজটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। তবে ১৭০ জন পর্যটককে কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইনসহ কয়েকটি জাহাজের মাধ্যমে সেন্টমার্টিনদ্বীপে পৌঁছে দেয়া হয়।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শফিউল আলম বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটিতে আসলে কারও হাত থাকে না। কর্তৃপক্ষের কথা ঠিক হয়ে থাকলে তারা ত্রুটি নিয়ে ঘাট ত্যাগ না করাই উত্তম হয়েছে। আর প্রতারণা করে থাকলে তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি টেকনিক্যাল। তাই কিছুই বলা যাচ্ছে না।
সায়ীদ আলমগীর/এএম/পিআর