ছাত্রকে তিনতলা থেকে ফেলে দিলেন শিক্ষক
ফরিদপুরে নিজ ছাত্রকে তিনতলার ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছেন এক শিক্ষক। গুরুতর আহত ওই ছাত্র এই অভিযোগ করেছেন।
শনিবার জেলার সালথা উপজেলার নবকাম পল্লী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একাদশ প্রথম বর্ষের ছাত্র মো. সোহাগ মোল্লাকে (২০) কলেজের তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে কাজী ফিরোজ আহমেদ নামের শিক্ষক ফেলে দেন বলে অভিযোগ করা হয়। ফিরোজ আহমেদ কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জানা যায়, সালথা উপজেলার গুপিনাথপুর গ্রামের রুস্তুম মোল্লার ছেলে সোহাগ কলেজের তিনতলা ভবনের চিলেকোঠায় বসে একই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ওই শিক্ষকের মেয়ের সঙ্গে গল্প করছিলেন। এইসময় ওই শিক্ষক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চড় থাপ্পড় মেরে সোহাগকে ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। সোহাগের দাবি মেয়েটির সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে।
গুরুতর আহত ওই ছাত্রকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ওই ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফরিদপুর ট্রমা সেন্টারে কর্তব্যরত ইন্টার্নি চিকিৎসক ডা. তাছফি আহমেদ তৃষা জানান, অনেক উঁচু থেকে পড়ার কারণে সোহাগের হাত ভেঙে গেছে এবং কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি জানান, সোহাগ এখনো শংকামুক্ত নন।
কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও প্রাক্তন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবদুর রব মোল্লা জানান, এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোহাগের মা শেফালী বেগম এ ঘটনায় ন্যায় বিচার দাবি করেছেন।
অপরদিকে শিক্ষক মো. ফিরোজ আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ছেলেটি আমাকে দেখে আতঙ্কে পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে নিজেই পড়ে যায়।
এসআরজে