মৃত ভোটারদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় ইসি


প্রকাশিত: ১০:০২ এএম, ২৬ জানুয়ারি ২০১৭

নির্বাচন কমিশনার মো. জাবেদ আলী বলেছেন, মৃত ভোটাররা শুধু আমাদের নয়, প্রার্থীদের জন্যও সমস্যা। দেশের অর্থের অপচয় হয়। প্রকৃত তথ্য না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই হালনাগাদ ভোটার তালিকায় তাদের নাম থেকে যাচ্ছে। এমনকি স্মার্ট কার্ডও তৈরি হচ্ছে। এজন্য তিনি মৃত ভোটারদের তথ্য দিয়ে নাম কর্তনে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন অফিসে তাদের সমর্থনে এক শতাংশ ভোটারের যে নামের তালিকা জমা দেন, তাতেও দু-একজন মৃত ভোটারের নাম থেকে যায়। এসব প্রমাণ হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীর প্রার্থিতাও বাতিল হয়।

শুধু তাই নয়, মৃত ব্যক্তিদের নামে লেমিনেশন করা ভোটার আইডি কার্ড এবং স্মার্ট কার্ডও তৈরি হয়েছে। প্রতি লেমিনেশন কার্ড তৈরিতে ২ টাকা ৩৪ পয়সা এবং প্রতি স্মার্ট কার্ড তৈরিতে খরচ পড়েছে ৮০ টাকা। এসব তৈরিতে ১৬-১৮ কোটি টাকা অপচয় হয়েছে।

সঠিক সময়ে ভোটারদের মৃত খবর পেলে এবং ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম কর্তন করা গেলে ওই অপচয় হতো না। মৃত্যুর খবর সঠিক সময়ে পৌঁছানোর জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার-দফাদারদেরও প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। তারপরও তা সঠিক সময়ে আসছে না।

তিনি বলেন, বছরে বাংলাদেশে প্রায় শতকরা দশমিক ৫৬ ভাগ মৃত্যুবরণ করছে। আমাদের হিসাবে ভোটার হয় প্রায় শতকরা আড়াই ভাগ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী লোকসংখ্যা বৃদ্ধি শতকরা ২ ভাগের চেয়ে কিছু কম। মৃতের হার যদি গড়ে শতকরা দশমিক ৫৬ ভাগ হয়, তাহলে তো ভোটার তালিকায় বিরাট রকমের কর্তন হওয়ার কথা। তা যদি না হয়, ভোটার তালিকা নিখুঁত হবে না।

এছাড়া হাসপাতালে কোনো ভোটার মারা গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মৃতের ভোটার আইডি কার্ডের নম্বরসহ মৃত্যুসনদ সরবরাহ এবং সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার কাউন্সিলর এবং ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্যদের ভোটারদের মৃত্যু তালিকা সরবরাহের পরামর্শ দেন।

তিনি আরো বলেন, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি হচ্ছে। এসময়ের মধ্যে তিনি ভোটারদের তথ্য হালনাগাদ করার তাগিদ দিয়েছেন।

এখন ভুয়া ভোটার হওয়া সহজ নয়, কারণ আঙুলের ছাপ নিয়ে ভোটার করা হচ্ছে। একজনের আঙুলের সঙ্গে অন্যের আঙুলের মিল রয়েছে। সবার সহযোগিতা পেলে নিখুঁত, পরিচ্ছন্ন ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা সংরক্ষণ করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

গাজীপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) জামিল আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় অারো বক্তব্য রাখেন গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. গোলাম হায়দার খান, গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান, জকিস্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবা রহমান, জয়দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদরুন্নেছা প্রমুখ।

আমিনুল ইসলাম/এআরএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।