চাকরির প্রলোভনে লিবিয়ায় যুবককে হত্যার অভিযোগ
বিদেশে চাকরি দেয়ার নাম করে সাড়ে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আরও টাকা না দেয়ার জন্য লিবিয়াতেই এক যুবককে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত ওই যুবকের নাম মোফাচ্ছের হোসেন (৩৮)। তার বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বেগমপুর এলাকায়।
এ ব্যাপারে আটজনের নাম উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোফাচ্ছেরের স্ত্রী রাহিমা আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
মামলার বাদী রাহিমা বলেন, গত বছরের ৫ নভেম্বর আমার এক মামি শ্বাশুড়ি ও মামাতো দেবরসহ কয়েকজন আমার স্বামীর বাড়ি আসেন। পরে তারা আমার স্বামীকে চাকরির জন্য লিবিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দেন।
পরে দ্রুত পাসপোর্ট ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য প্রথমে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা ও বাকি টাকা লিবিয়ায় চাকরি করে পরিশোধের কথা বললে আমার স্বামী লিবিয়ায় যেতে রাজি হন।
গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ফ্লাইটের কথা বলে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ জিয়াসমিন ও তার স্বামী মো. বাদল মিয়াসহ কয়েকজন আমার স্বামীকে বাসা থেকে ৪ ডিসেম্বর ঢাকায় নিয়ে যান।
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর বাদল মিয়া তার মোবাইল নম্বর থেকে জানায় আমার স্বামী মোফাচ্ছেরকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়েছে। এখন টাকা দিলে তাকে চাকরি দেয়া হবে।
এর দুদিন পর জিয়াসমিন আমার বাসায় গিয়ে দেড় লাখ টাকা নিয়ে যান। তারপর আমার স্বামী লিবিয়া থেকে ফোন করে জানান টাকার জন্য তাকে খাবার না দিয়ে লিবিয়ার একটি কক্ষে আটকে মারধর করা হচ্ছে।
এ খবর পেয়ে কয়েক দফায় মোট ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হয় আসামিদের কাছে। তারপরও আমার স্বামীকে চাকরি না দিয়ে এ বছরের গত ২১ জানুয়ারি রাত ৯টায় একটি ফোন থেকে আমার স্বামীর মৃত্যু সংবাদ জানানো হয় এবং ভিডিও কল করে নিহত স্বামীর মরদেহের ছবি ও তার মৃত্যুসনদ পাঠায়।
বর্তমানে তার মরদেহ লিবিয়ার রাজধানী ট্রিপলির সাহারা হসপিটালে রয়েছে বলেও জানানো হয়। তার মৃত্যুর সংবাদ ভিডিওকলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর আসামি জিয়াসমিনকে আমি চাপ দিই। এরপর থেকেই তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
পরে ওই চক্রের সদস্য জনৈক আমীর আলী লিবিয়া থেকে মোবাইল ফোন করে জানান, ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাঠালে তার স্বামীর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।
মামলার বাদীপক্ষের গাজীপুর আদালতের আইনজীবী মো. আক্তারুজ্জামান জানান, আদালত সিআইডির ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিকে মামলার তদন্ত এবং লিবিয়া থেকে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মোঃ আমিনুল ইসলাম/এএম/জেআইএম