নাগরিকত্ব নিশ্চিতে সহযোগিতার অনুরোধ রোহিঙ্গাদের


প্রকাশিত: ১২:৪৫ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

নিজ দেশ মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে আশ্রয়ের আশায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে এবার উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে এসেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তিন দেশের রাষ্ট্রদূত।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টায় কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে পৌঁছেন বৃটেনের রাষ্ট্রদূত অ্যালিসন ব্লেক, কানাডার বিনো পিয়েরে লারামি ও অস্ট্রেলিয়ার মিজ জুলিয়া নিব্লেট।

কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নোমান জানান, রাষ্ট্রদূতরা ক্যাম্পে এসে এখানে অবস্থানকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। রোহিঙ্গারা তাদের কাছে মিয়ানমার সেনা ও পুলিশ সদস্যদের চালানো পৈচাশিকতার বর্ণনা দেন। তারা মনোযোগ সহকারে নির্যাতনের কাহিনী শুনেন।

এসময় রোহিঙ্গারা নাগরিত্ব নিয়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিতে তিন দেশের রাষ্ট্রদূতদের প্রতি অনুরোধ জানান।

রোহিঙ্গারা বলেন, বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতা দেখিয়েছে। উখিয়া-টেকনাফ থেকে তাদের সরিয়ে অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হলে মিয়ানমার তাদের ফিরিয়ে নিতে হয়তো কালক্ষেপণ করবে। তাই অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চেয়ে বিশ্বচাপের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেতে ব্যবস্থায় সহযোগিতা করতে রাষ্ট্রদূতদের প্রতি রোহিঙ্গারা অনুরোধ জানান।  

এর আগে বুধবার দুপুরে ৩ রাষ্ট্রদূত কক্সবাজার এসে পৌঁছান। ওই দিন সন্ধ্যায় তারা কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী আবদুর রহমান তিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপ করেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) সূত্র জানায়, গত ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন রাখাইন ও কফি আনান কমিশনের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। ৩১ জানুয়ারি মার্কিন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মার্সা বার্ণিকাটসহ ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। তারা ফিরে যাবার আগে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এলাকায় বিজিপির তিনটি চৌকিতে সন্ত্রাসীদের সমন্বিত হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর তার দায় চাপানো হয় রোহিঙ্গাদের ওপর। আর তখন থেকেই শুরু হয় সেনাবাহিনীর দমন নিপীড়ন। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এরপর থেকেই রাখাইন রাজ্যে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘ এরই মধ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করার অভিযোগ এনেছে। রোহিঙ্গা নারীদের গণধর্ষণ, হত্যাসহ নানা নির্যাতনের কারণে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
 
সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।