ভালোবাসা দিবসের সঙ্গী চকরিয়ার গোলাপ নগর
ঋতুরাজ বসন্ত ডাক দিয়েছে সোমবার। প্রকৃতির পরতে পরতে ফুটেছে ফুল। ফাগুনের হাওয়া মাতিয়ে তুলেছে সবাইকে। এরই মাঝে আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস (ভ্যালেন্টাইনস ডে)। প্রতিদিনই সবাই সবাইকে ভালোবাসলেও আজকের এ দিনটিতে অনুরাগী মানুষ তার প্রিয়জনকে আলাদা করেই ভালোবাসতে পছন্দ করেন।
দিবসটি সম্পর্কে বাংলাদেশেও মাতামাতি শুরুর পর থেকে যান্ত্রিক জীবনের আবহতে থাকা সব বয়সের মানুষ দিবসটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজনের কমতি করেন না। ডিজিটাল সময়ে প্রযুক্তির যুগেও ভালবাসা জানানোর আদি মাধ্যম ফুলকেই বেছে নেন প্রেম পাগল মানুষরা।
এ কারণে ভ্যালেন্টাইনস ডে কে লক্ষ্য করে প্রস্তুতি থাকে কক্সবাজারের চকরিয়ার গোলাপ নগর খ্যাত বরইতলী ও হারবাং এলাকার ফুল চাষিদের। তারা প্রস্তুতি ও চাহিদা অনুসারে সোমবার কয়েক লাখ গোলাপ কক্সবাজার শহর, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়েছেন। পাইকারি ও খুচরা অর্ডারে এবারের ভালোবাসা দিবসে চকরিয়ার চাষিরা কোটি টাকার ফুল বিকিকিনি করেছেন বলে জানিয়েছেন।20170214094824.jpg)
বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নের ফুল চাষিরা জানান, গোলাপ নগরখ্যাত বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নে প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক বাণিজ্যিকভাবে সৃজিত রকমারি ফুলের বাগানে পালাক্রমে কাজ করছেন। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ফুল বেচাকেনার ধুম পড়েছে এখানে। গোলাপ ও গ্লাডিওলাস ফুল বিক্রি হচ্ছে বেশি। এতে বেশি লাভের মুখ দেখবেন এখানকার চাষিরা।
চকরিয়ার বরইতলী থেকে পাইকারি দরে কিনে কক্সবাজার শহরে ফুল বিক্রি করা বাদশা জানান, প্রতিদিন গড়ে কয়েক হাজার পিস ফুল কেনা হয় চকরিয়ার বরইতলী থেকে। বিশেষ দিবসে তা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এবারের ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আগাম অর্ডার দেয়া হয় প্রায় অর্ধলাখ গোলাপ ও গ্লাডিওলাস ফুলের।
বরইতলী এলাকার ফুলচাষি শামীম ছিদ্দিকী বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি আয়ের আশায় আত্মীয়ের সঙ্গে ফুলচাষে নামি। প্রায় এক একর জমিতে গোলাপ ও গ্লাডিওলাসসহ নানা ফুলের চাষ করেছি। এলাকার দশজন বেকার নারী-পুরুষ এখানে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। চাকরির পাশাপাশি ফুল চাষ থেকেও ভাল একটি আয় আসছে।
তিনি জানান, ইন্টারনেটের যুগ হলেও ফুলের চাহিদা আগের মতোই আছে। তাই উৎপাদিত ফুল বিকিকিনিতে কোনো বেগ পেতে হয় না। সকালে বাগান থেকে ফুল তোলার পর কক্সবাজার-চট্টগ্রামের পাইকাররা সরাসরি এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষেও অনেক ফুল সোমবার নিয়ে গেছেন পাইকাররা।
চাষিরা জানান, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকায় গোলাপ প্রতি দাম মানভেদে পাইকারি তিন থেকে চার টাকা ও রকমারি রঙয়ের গ্লাডিওলাস ফুল ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে চাষি, পরিচর্যা এবং ফুল তোলায় নিয়োজিত কয়েকশ নারী-পুরুষ তৃপ্তি নিয়ে কাজ করছেন।
বরইতলী ফুল বাগান মালিক সমিতির আহ্বায়ক মো. মইনুল ইসলাম বলেন, ফুল চাষে সুদিন ফিরে এসেছে। দেশে শান্তি বিরাজ করায় পুরোদমে ফুলচাষে নেমেছেন চাষিরা। তাই আশা করছি, সব চাষি এবারের ভালোবাসা দিবসে গোলাপ ও গ্লাডিওলাসসহ রকমারি ফুল বিক্রি হবে কোটি টাকার। রোববার থেকে আগাম অর্ডারের সবকটি বাগানের সিংহভাগ ফুল চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাইকারদের সরবরাহ করা হয়।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক উলাহ জানান, বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নের ১২০ একর জমিতে পুরোদমে ফুলের চাষ করছেন শতাধিক চাষি। শুষ্ক মৌসুম চলমান থাকা পর্যন্ত ফুল উৎপাদন ভালোই হবে আশা করা যায়। ভালোবাসা দিবসসহ সবকটি দিবসে ফুল বিক্রিও ভালো হবে। এতে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হবেন চাষিরা।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এটিএম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জিয়া জানান, ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ একসময় তাদের জমিতে তামাকচাষ করতো। এতে পরিবেশ ও শারীরিক ক্ষতির বিষয়টি আমি তাদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছি।
এরপর থেকে দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে তামাক ছেড়ে ফুলচাষে মনযোগী হয়েছেন তারা। ইতোমধ্যে ফুলচাষে অনেকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। যা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করে।
এফএ/আরআইপি