মহেশখালীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
কক্সবাজারের মহেশখালীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আবদুস সাত্তার ওরফে সব্বির আহমদ (৩৩) নামে এক ‘ডাকাত’ নিহত হয়েছেন। এসময় নিহতের তিন সহযোগীকে আটক এবং ঘটনাস্থল থেকে ১৪টি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ৫৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার হোয়ানক নয়াপাড়ার পূর্বপাশে পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের সাত সদস্য আহত হয়েছেন।
নিহত আবদুস সাত্তার উপজেলা হোয়ান ইউনিয়নের বড়ছড়া এলাকার মৃত নুরচ্ছফার ছেলে।
মহেশখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, একটি অপরাধী চক্র ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবর পেয়ে ভোরে হোয়ানক নয়াপাড়ার পূর্ব পাশে পাহাড়ে অভিযানে যায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
এসময় পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে ডাকাত আবদুস সাত্তার নিহত হন। পুলিশ তার কাছে থাকা একটি বন্দুকসহ ঘটনাস্থল থেকে আরো ছয়টি বন্দুক ও ২৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে । এ সময় ডাকাতদের হামলায় পুলিশের এসআই মনিরুল ইসলাম, এস আই হারুন রশিদ, এস আই শাহেদ, এএসআই আজিম উদ্দিন, কনেস্টবল সঞ্জয় মজুমদার, রুবেলা দাশ, ফিরোজ আহত হন।
ওসি আর জানান, একই রাত ৩ টার দিকে উপজেলা মাতার বাড়ী ইউনিয়নে মইন্যার ঘোনা নামক স্থানে মাতারবাড়ী পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই শাওন দাশের নেতৃত্বে পুলিশ মঈনার ঘোনা এলাকায় আরেক অভিযানে যায়। সেখানেও ডাকাতদল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এসময় গুলিবিদ্ধ তিন ডাকাতকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ডাকাত দলের ৮টি লম্বা বন্দুক ও ৩০ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। অভিযানে পুলিশের এসআই শাওন দাশ, এএসআই সুজন মাহামুদ, এ এস আই জাহাঙ্গীর, কনেস্টেবল নাজমুল হান্নান আহত হন।
গুলবিদ্ধ ডাকাতরা হলেন- মাতারবাড়ী মাইজ পাড়া গ্রামের মকছুদ মিয়ার ছেলে ওয়াজ উদ্দিন, আবু ছৈয়দের ছেলে নাছির উদ্দিন ও নাজু ডাকাত।
খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থলে যান কক্সবাজারর পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল ও রুহুল আমিন। পরে তিনি মহেশখালী থানার সামনে এক প্রেস ব্রিফিং করেন।
পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন বলেন, আজকে ডাকাত দলের সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে একটি সফল অপারেশন সম্পন্ন করেছে পুলিশ। যা প্রশংসার দাবি রাখে। সবার সহযোগিতা পেলে মহেশখালী অপরাধী মুক্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/আরআইপি