এক মণ ইলিশ সোয়া লাখ টাকা!


প্রকাশিত: ১০:২৮ এএম, ০৫ এপ্রিল ২০১৫

বরিশালের মোকামে ইলিশের মণ সোয়া লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে। মূল্য বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বিগত দিনের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

বড় ইলিশের কেজি পাইকারি বাজারে তিন হাজার ২০০ টাকা। খুচরা বাজারে ওই ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে তিন হাজার টাকা দরে। এই দামে ইলিশ কিনতে পারছে না সাধারণ মানুষ। তবুও কমছে না দাম। এই দরেই বিক্রি হচ্ছে মণে মণে ইলিশ।
চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করেই এক শ্রেণির ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইলিশ মজুদের ফলে মূলত এ মূল্য বৃদ্ধি বলে মনে করছেন সাধারন ক্রেতারা।

সংশ্লিষ্টটরা জানায়, সামুদ্রিক ইলিশ লবণাক্ত হওয়ায় বরিশাল অঞ্চলের মিঠা পানির রূপালী ইলিশের কদর একটু বেশী। তাই বরিশাল অঞ্চলের ইলিশের চাহিদা সারা বছর সারা দেশে। দেশের বাইরেও রয়েছে এর খ্যাতি। আর এ কারণেই বরিশালের ইলিশের বাজার সব সময় চড়া। এর সাথে যোগ হয়েছে পহেলা বৈশাখের উত্তাপ। বরিশালের বাইরে থেকেও অনেকে আসছেন পহেলা বৈশাখের অনুসর্গ হয়ে ওঠা পান্তা ইলিশের ইলিশ সংগ্রহ করতে। সব মিলিয়ে বরিশালের ইলিশের বাজার এখন গরম। দাম সাধারণের নাগালের বাইরে।

নগরীর ইলিশের মোকাম পোর্ট রোডের আড়তদাররা জানান, রোববার পাইকারি বাজারে ১ কেজি ২শ’ থেকে ৪শ’ গ্রাম আকারের প্রতি মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। একইভাবে এক কেজি আকারের প্রতি মণ ১ লাখ টাকা এবং ৮শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম সাইজের প্রতি মণ ৮০ হাজার টাকা। ৬শ’ থেকে ৭শ’ গ্রামের প্রতি মণ ৭০ হাজার এবং ৪শ’ থেকে ৫শ’ গ্রাম সাইজের প্রতি মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪০ হাজার টাকায়।

আড়তদাররা জানান, জাটকা নিধন বন্ধে ইলিশ শিকারে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এ ছাড়া প্রতিবছর এসময় ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানের কিছু সৌখিন ব্যবসায়ীও  ইলিশ ক্রয়ের জন্য ছুটে আসেন বরিশালে। তারা টাকার দিকে তাকান না। যে কোন মূল্যে তাজা ইলিশ ক্রয় করে মজুদ করেন।

এদিকে, নগরীর বাংলা বাজার, চৌমাথা বাজার , বটতলা ও বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে খুচরা বাজারে কিছু ইলিশের সরবরাহ থাকলেও দাম চড়া হাওয়ায় এর পাশে ভিড়তে পারছেন না ক্রেতারা। তাই ব্যর্থ হয়েই ফিরে যাচ্ছেন বেশির ভাগ সাধারণ ক্রেতা।

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইলিশ মজুদ করা হচ্ছে। সরবারহ না থাকার কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।  সরবারহের অভাব দেখিয়ে ইলিশের দ্বিগুণ দাম বাড়ানোর সন্দেহ করছেন সাধারণ ক্রেতারা।

নগরীর বটতলা বাজারে ইলিশ কিনতে এসে ক্রেতা আব্দুর রব (অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) বলেন, নাতনীরা পহেলা বৈশাখে ইলিশ খেতে চেয়েছে। তবে  বাসা থেকে যে বাজেট নিয়ে এসেছি তার কয়েকগুণ বেশি দাম হাঁকছে ইলিশের বিক্রেতারা। এত টাকা দিয়ে ইলিশ কেনার সক্ষমতা তার নেই।

ক্রেতাদের সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর বিষয়ে দিনা মৎস্য আড়তের সত্ত্বাধিকারী মো. ফরিদ হোসেন বলেন, মোকামে প্রকাশ্যে ডাক দিয়ে ইলিশের লট (স্তুপ) কেনা হয়। এখানে কোন সিন্ডিকেট করার সুযোগ নেই। প্রতিযোগিতামূলক ডাকে চড়া দামে কিনতে হয় বিধায় বেশী দামে বিক্রি করতে হয় বলে জানান তিনি।
 
জেলা মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত দাস বলেন, প্রতিদিন ২ হাজার মণ চাহিদার বিপরীতে মোকামে ইলিশ আসছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মণ। স্বাভাবিকভাবেই বাজার অস্থির। পহেলা বৈশাখের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ইলিশের দাম আরো বাড়বে বলে আভাস দিয়েছেন তিনি।
 

বরিশাল জেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অজিত কুমার দাস মনু জানান, বিগত দিনের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে এবার ইলিশের দর। মূল্য বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বলেন, মৌসুমের এই সময় বরিশাল ছাড়া এত বড় আকারের মিঠা পানির ইলিশ দেশের কোথাও পাওয়া যায়না । ইলিশ কিনতে সবাই ছুটে আসেন বরিশালে। দূরদূরান্তের ভিআইপি এবং সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের সরবরাহ করেই কুলোনো যাচ্ছে না। তাই দাম একটু বেশী। তবে কোন সিন্ডিকেট নয়, প্রকাশ্য ডাকে ইলিশের দাম নির্ধারিত হয় বলে সমিতিরও কিছু করার নেই।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, অভয়াশ্রমগুলোতে জেলেরা মাছ শিকার করতে না পারায় বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম। তবে  আগস্টের শুরু থেকেই ইলিশের বাজার স্বাভাবিক হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো এবং সংরক্ষণে নানা পদক্ষেপ নিলেও দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে মৎস্য বিভাগের কোন ভূমিকা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
 
উল্লেখ্য বরিশালের পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামে ১২৫ জন আড়ৎদার রয়েছেন। এছাড়া ভোলা, পটুয়াখালীর মহিপুর এবং বরগুনার পাথরঘাটা মোকামে ইলিশের বিকিকিনি হয়।

এমজেড/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।