গাজীপুরে বিআরটি রোডের পরিবেশগত কর্মশালা


প্রকাশিত: ১১:১৪ এএম, ০৭ এপ্রিল ২০১৫

গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি গাজীপুর-এয়ারপোর্ট) এর পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে গণপরামর্শ শীর্ষক এক কর্মশালা মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান কিরণ এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন প্রকল্প কর্মকর্তা আফিল উদ্দিন, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ, ইঞ্জিনিয়ারিংং প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কন্সট্রাশন ম্যানেজমেন্টের মি. জনথ্রপ, প্রকৌশলী এসকে আমজাদ হোসেন।

কর্মশালায় বিআরটি রোড তৈরি হলে এর জন্য পরিবেশগত কি সমস্যা হতে পারে সে জন্য বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও সুপারিশ নেয়া হয়।

কর্মশালায় জানানো হয়, গাজীপুর মহানগরীর জয়দেবপুরের শিববাড়ি থেকে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এর দৈর্ঘের এ সড়কের মাঝখানে তৈরি হবে বিআরটি রোড। এতে অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করবে না। এর মধ্যে ২৫টি স্টপিজ থাকবে এবং সড়ক পার হওয়ার জন্য প্রশস্ত আন্ডার পাস বা ওভার পাস তেরি করা হবে। ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের টেন্ডার আগামি আগস্ট মাসের মধ্যে দেয়া সম্ভব হবে। নির্মাণ কাজ শুরু হলে ২ থেকে তিন বছরের মধ্যে এটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।

২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেন।

এই প্রকল্পের আওতার মধ্যে রয়েছে ছয়টি উড়াল সড়ক, চার কিলোমিটার এলিভেটেড সড়ক, ১৪১টি সংযোগ সড়ক, ১২ কিলোমিটার আপৎকালীন জল নির্গমন পথ (স্ট্রম ড্রেন), আট লেনের টঙ্গী ব্রিজ, গাজীপুর বাস ডিপো, জয়দেবপুর এবং বিমানবন্দর বাস টার্মিনাল। এরমধ্যে ছয়টি উড়ালসড়ক নির্মিত হবে বিমানবন্দর ক্রসিং, উত্তরার জসিমুদ্দিন রোড, কুনিয়া, বোর্ডবাজার, ভোগড়া এবং গাজীপুরের জয়দেবপুরে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সেতু কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সরকারের প্রকৌশল বিভাগ।

এই বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকার সঙ্গে গাজীপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। দ্রুত গতির এই রুটে ১৪০টি বাস প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে। আর দ্রুত গতির হওয়ার ফলে যাত্রীদের সময়ও বাঁচবে উল্লেখযোগ্য হারে। কারণ বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর যেতে সময় লাগবে মাত্র ৪০ মিনিট। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। যার মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ফ্রেঞ্চ এজেন্সি ফর ডেভলপমেন্ট (এএফডি) ও গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি দেবে ১ হাজার ৬৫০ দশমিক ৭ কোটি টাকা। আর বাকি টাকা আসবে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে। প্রকল্পটি শেষ করার জন্য এখন নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৭ সাল।

এমএএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।