ঘরছাড়া আশ্রয়ণ কেন্দ্রের শতাধিক পরিবার
ভূমি দস্যুদের অত্যাচারে চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মেঘনার চরের মনোহরখাদী আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ঘর ছেড়েছে শতাধিক পরিবার। কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া ১৬০টি পরিবারের মধ্যে বর্তমানে সেখানে ৪৮টি পরিবার জীবনবাজি রেখে বসবাস করছে। অথচ তাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।
তবে মাঝে মধ্যে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন খান শামিম সেখানে গিয়ে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে বসবাসকারীদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল ওই চরের সকল জমি দখল করে নিয়েছে। ফলে আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ছিন্নমূল লোকদের কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সেখানে নেই। এছাড়া ওই প্রভাবশালী মহলের লোকদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই নিজ ঘরে তালা দিয়ে আশ্রয়ণ কেন্দ্র ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে মাত্র ৪৮টি পরিবার বসবাস করছে। 
তাদের অভিযোগ, জমি দখলকারীরা তাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। রাতে তাদের ঘরের রান্না করার পাতিলসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। যাতে আশ্রয়ণ কেন্দ্র ছেড়ে তারাও চলে যান।
আশ্রয়ণ কেন্দ্রের খলিল বেপারী, কলাবতী বর্মন, সাজেদা বেগম, মোহাস্মদ আলীসহ অনেকেই জাগো নিউজকে জানান, আশ্রয়ণ কেন্দ্রে বসবাস করা অবস্থায় চরের আশেপাশে তারা চাষাবাদ করে জীবন নির্বাহ করতেন। কিন্তু এখন হঠাৎ করে চরাঞ্চলের সকল জমি প্রভাবশালীরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে। সরকারিভাবে কোনো অনুমোদন আছে কি না তাও তারা জানেন না।
ওই প্রভাবশালী মহল এখন আশ্রয়ণ কেন্দ্রের লোকদের আশপাশের জমিতে কোনো চাষাবাদ করতে দিচ্ছে না। এমনকি গরু-ছাগলও চরাতে দিচ্ছে না। রাতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আশ্রয়ণ কেন্দ্রের লোকেরা কোনো কিছু না করতে না পেরে অভাব-অনটনে আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে চলে যাচ্ছে। 
এ বিষয়ে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন খান শামিম জাগো নিউজকে জানান, আশ্রয়ণ কেন্দ্রে বসবাসকারী অসহায় মানুষদের ওপর স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের জুলুম-নির্যাতনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। প্রভাবশালীরা চরাঞ্চলের বিশাল জায়গা দখল করে নিয়েছে এবং আশ্রয়ণ কেন্দ্রের মানুষদের সেখানে কোনো প্রকার চাষাবাদ করতে দিচ্ছে না। গবাদিপশুও পালতে দিচ্ছে না। ফলে আশ্রয়ণ কেন্দ্র বসবাসকারী অর্ধেকের বেশি পরিবার ঘরে তালা দিয়ে নদীর এপারে এসে বাসা ভাড়া করে থাকছেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাদেরকে হুমকি দিচ্ছে জমি দখলকারীরা।এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা.দীপু মনি সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদয়ন দেওয়ান জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। সেখানে প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তিকে বা কাউকে জমি লিজ দেয়া হয়নি। আশ্রয়ণ কেন্দ্রে বসবাসকারীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ইকরাম চৌধুরী/আরএআর/পিআর