কক্সবাজারে আবারও অপহরণ : মুক্তিপণ দাবি
কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে আবারও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল ৬টার দিকে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের ভোমরিয়াঘোনার টেকে ঈদগাঁওগামী সিএনজির গতিরোধের পর যাত্রীদের মারধর করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে এক যাত্রীকে অপহরণ করে পাশ্ববর্তী পাহাড়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
অপহৃত ব্যক্তির নাম আজিজুল হক দুদু মিয়া (৩৬)। তিনি রামু উপজেলার ঈদগড় চরপাড়া গ্রামের মোক্তার আহাম্মদের (লেদুর বাপ) ছেলে। অপহৃত দুদু মিয়ার ভগ্নিপতি নুরুল ইসলাম জানান, অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে।
ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা এএসআই মোর্শেদ আলম ঘটনাটি শুনেছেন দাবি করে বলেন, অপহরণ এলাকাটি সদরের ঈদগাঁও পুলিশ কেন্দ্রের আওতাধীন। এরপরও অপহৃত আজিজুল হককে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদগাঁও-ঈদগড় ও বাইশারী সড়কে পুলিশ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টহল জোরদার করে। এই সময়ের আগে পরে পারত পক্ষে যাতায়ত না করতে তিনি চলাচলকারীদের প্রতি অনুরোধ জানান।
ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. খায়রুজ্জামান বলেন, সদর ও রামুর পুলিশ সন্ধ্যার পর থেকে যৌথভাবে পাহাড়ে অভিযানে নেমেছে। আশা করছি রাতের ভেতর কোনো শুভ সংবাদ নিয়ে ফেরা যাবে।
তিনি বলেন, বিগত বছরের শেষের দিকে বেশ কয়েকজন অপহরণকারী সনাক্তের পর ক্রসফায়ারে মারা গেলে অপহরণ এক প্রকার বন্ধ ছিল। কিন্তু আবার তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আবারও চিরুনী অভিযানের পরিকল্পনা করছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।
উল্লেখ্য, বিগত ২০১৬ সালে প্রবাসী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, ব্যাংক কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষ মিলে প্রায় অর্ধশত লোককে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। এ পর্যন্ত তারা প্রায় কোটি টাকার উপর মুক্তিপণও আদায় করেছে। বান্দরবান থেকে টেকনাফ পর্যন্ত পাহাড়ের পরিচিত দুর্বৃত্তদল এসবের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। পাহাড়ের ভেতর সমতল বা বাজার এলাকার কিছু ব্যক্তি দুর্বৃত্তদলের হয়ে দাবিকরা মুক্তিপণের টাকা লেনদেন করে থাকেন বলেও সূত্র দাবি করেছে।
সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/জেআইএম