বাগেরহাটে রাতে গ্রেফতার বিএনপি নেতা, দুপুরে জামিন
বাগেরহাটের কচুয়ায় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেফতার বিএনপির এক নেতাকে জামিন দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত ১০টার দিকে কচুয়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের তেচ্ছিপোল এলাকা থেকে শহিদুল ইসলাম (৫০) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে যৌথবাহিনী।
শহিদুল ইসলাম ওরফে খোকন মোল্লা গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কচুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি।
রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বসতবাড়িতে হামলা করে গৃহবধূকে মারধর, বাড়িঘর ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি হেলেনা বেগম নামের এক নারী কচুয়া থানায় মামলা করেন।
মামলায় শহিদুল ইসলাম খোকন মোল্লাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ৬ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কচুয়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বিষখালী গ্রামের মো. শফিউদ্দিনের বাড়িতে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। এ সময় শহিদুল ইসলাম বাড়িতে থাকা হেলেনা বেগমকে মারধর করে কানে থাকা স্বর্ণের দুল চুরি করে এবং দুটি মোটরসাইকেল চাপাতি, হাতুড়ি, লোহা দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে ভাঙচুর করে।
ওই বাড়িতে হামলা করে মোটরসাইকেল ভাঙচুরের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। হামলার শিকার পরিবারটি বাগেরহাট-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের (ঘোড়া) সমর্থক বলে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করেছিল তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান টুটুল।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত মামলার ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে এজাহারভুক্ত আসামি শহিদুল ইসলাম খোকন মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর বুধবার সকালে তাকে বাগেরহাট আদালতে পাঠায় থানা পুলিশ। সেখানে আদালতের বিচারক তাকে জামিন দিয়েছে।
বাগেরহাট আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান বলেন, বুধবার দুপুরে বাগেরহাটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রহমাতুল্লাহর আদালতে হাজির করা হলে আসামিপক্ষ শহিদুল ইসলামের জামিন আবেদন করেন। পরে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
নাহিদ ফরাজী/আরএইচ/এমএন