ভাঙল সাধুর হাট


প্রকাশিত: ০৩:২০ এএম, ১৪ মার্চ ২০১৭

ভেঙেছে সাধুর হাট। ‘মানুষে মানুষ রতন’ দীক্ষা নিয়ে সাধুরা ফিরেছেন যে যার আপন ঘরে।

সোমবার শেষ হয়েছে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে লালন একাডেমি আয়োজিত বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ৩ দিনব্যাপী স্মরণোৎসবের নানান আচার-অনুষ্ঠান।

আখড়াবাড়ি ঘুরে দেখা গেছে, দূর-দূরান্ত থেকে আসা বাউলরা আস্তানা ছেড়ে রওনা হয়েছেন আপনালয়ে। ফেরার আগে শেষবারের মত গুরুকে প্রণাম ও ভক্তি জানিয়ে বিদায় নেন শিষ্যরা।

নাটরের গুরু মহর আলী সাঁই জানান, সাঁইজি নিজের জীবদ্দশায় মূলত ভক্ত আর শিষ্যদের নিয়ে আড়াই দিনের উৎসব করতেন। সে নিয়ম মেনেই বাউলরা ভাটায় আসেন উজানে ফিরে যান। তারা সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যাপারে খোঁজও রাখেন না।

শুক্রবার ভোরে সূর্য ওঠার আগেই অহিংস মানবতা প্রতিষ্ঠায় আপন মোকামে গুরুর চরণ ছুঁয়ে ভক্তি নিবেদন করে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন অনেক বাউল। লালন আখড়ার আশপাশে ও একাডেমির নিচে যারা আসন গাড়েন তারা সাঁইয়ের ভক্তি আর আরাধনায় নিমগ্ন থাকেন। কখনো স্থান ত্যাগ করেন না।

বাড়ি ফিরবেন কবে প্রশ্ন করলে গুরু মহর আলী সাঁই জানান, সংসার ধর্ম টানে না তাকে। সারা বছর পথেই কেটে যায়। তবে মনের তৃষ্ণা মেটাতে মাঝে মধ্যে আসেন সাঁইজির ধামে। পরিপূর্ণ হৃদয় নিয়ে ফেরেন ভবের বাজারে।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হানের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশীদ আসকারী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল বায়েছ মিয়া, কুষ্টিয়া পৌর মেয়র আনোয়ার আলী, জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাজমুল ইসলাম ও লালন একাডেমির সাবেক সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন।

স্বাগত বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন লালন একাডেমির সহ-সভাপতি ও কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুজিব-উল-ফেরদৌস।

আল-মামুন সাগর/এমএমজেড/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।