এসপির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন, মানবাধিকার সংগঠক আটক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৭:৩১ এএম, ১৪ মার্চ ২০১৭

এসপির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের ৭ ঘণ্টা পর মানবাধিকার সংগঠন ‘রাইটস যশোর’ এর নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিককে নিজবাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে গেছে পুলিশ। নরসিংদী থানার একটি প্রতারণা মামলায় সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে শহরের ঘোপ এলাকার বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

এর আগে তিনি ওইদনি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের নিপীড়ন-নির্যাতন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
 
৯ মার্চ তার ছেলে সবুজ মল্লিককে ফেনসিডিল দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনা সংবাদ সম্মেলনের উপলক্ষ হলেও সেখানে যশোরের পুলিশ সুপারের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক। এরপরই তাকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তার ছোট ছেলে শ্যামল কৃষ্ণ মল্লিক।

প্রসঙ্গত, বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক যশোর প্রেসক্লাবের সদস্য। তিনি দৈনিক টেলিগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক। সোমবার ওই সংবাদ সম্মেলনে ‘বাবার সঙ্গে বিরোধ, তাই ফেনসিডিল দিয়ে পুলিশ ফাঁসিয়ে দিয়েছে ছেলেকে’ এমন অভিযোগ করেন যশোরের মানবাধিকার সংগঠক ‘রাইটস যশোর’র নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক।

যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের নির্দেশে সাদা পোশাকের পুলিশ বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের ছেলে সবুজ মল্লিককে যশোর শহরের গাড়িখানাস্থ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৯ মার্চ তুলে নিয়ে যায়। এরপর ৫০ বোতল ফেনসিডিল দিয়ে খুলনার ফুলতলা থানার টহল পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই দাবি করেন আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত মানবাধিকার সংগঠক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক।

তিনি অভিযোগ করেন, এসপির নেতৃত্বে পুলিশের দখলদারিত্বের প্রতিবাদ করায় তার পরিবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সর্বশেষ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তার ছেলে সবুজ মল্লিক। এর আগে তাকে ‘মানব পাচারকারী’ হিসেবে থানায় ছবি ঝুলানো এবং তার ছেলের নামে বোমা হামলা মামলা দেয়া হয়।

লিখিত বক্তব্যে বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, শহরের গাড়িখানা রোডে সরকারের কাছ থেকে এপি ২০/৭২ খাসজমি বরাদ্দ নিয়ে প্রায় শত বছর ধরে বসবাস ও ব্যবসা করছিল ৪০টি পরিবার। গতবছর পুলিশ গায়ের জোরে অস্ত্রের মুখে তাদের উচ্ছেদ করে ওই জমি দখল করে। মানবাধিকার কর্মী হিসেবে পুলিশের এ দখলদারিত্বের প্রতিবাদ করায় আমাকে শায়েস্তা করতে মাঠে নামে এসপি। এরই অংশ হিসেবে সর্বশেষ সবুজকে ফেনসিডিল মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, ৯ মার্চ রাত ৮টার দিকে সবুজ যশোর শহরের গাড়িখানা রোডস্থ মোবাইল ফোনের ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিল। দোকানের অদূরে ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে সাদা পোশাকের পুলিশ তাকে চোখ ও হাত বেঁধে গাড়িতে করে নিয়ে যায়।

এসময় সবুজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন (০১৭৫৪৭৩৯৬২৯) ছিনিয়ে নিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। ঘটনার দিন রাত ৮টা ১৫ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে যশোর শহরের ম্যাগপাই টাওয়ারের অধীনে নম্বরটি বন্ধ করা হয়। যা কললিস্ট তুলে জানতে পারি। এর পরদিন খুলনার ফুলতলা থানা থেকে পরিবারকে জানানো হয় সেখানে ফেনসিডিলসহ সবুজকে আটক করা হয়েছে।
 
বিনয় মল্লিক জানান, যে ছেলে ধূমপান পর্যন্ত করে না তাকে মাদকসহ আটক দেখিয়ে ফাঁসানো হয়েছে যশোরের এসপির ষড়যন্ত্রে। ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এসপি আনিসুর রহমানকে মহাদুর্নীতিবাজ অ্যাখ্যা দিয়ে তাকে বরখাস্ত ও তার বিচার দাবি করেন মানবাধিকার সংগঠক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক।

সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাইটস যশোরের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুমা আক্তার, সদস্য মিজানুর রহমান।

তবে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জমি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ নিয়ে তিনি একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন করলেন। দুদকসহ বিভিন্ন দফতরে তিনি আমার বিরুদ্ধে দরখাস্তও করেছেন। তবে বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের ছেলে সবুজ মল্লিককে আটকের বিষয়ে তার কোনো ভূমিকা নেই বলে দাবি করেন এসপি আনিসুর রহমান।

অন্যদিকে সোমবার রাতে বিনয় কৃষ্ণের আটকের বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন জানান, তার নামে নরসিংদী থানায় প্রতারণা মামলা রয়েছে। তাই তাকে আটক করা হয়েছে।

মিলন রহমান/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।