জাফর ইকবালসহ ৩৫ শিক্ষকের পদত্যাগ


প্রকাশিত: ০৭:১০ এএম, ২০ এপ্রিল ২০১৫

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষকদের সঙ্গে উপাচার্যের অসম্মানজনক আচরণের প্রতিবাদে ৩৭টি প্রশাসনিক পদ থেকে ৩৫ জন শিক্ষক একযোগে পদত্যাগ করেছেন। তবে পদত্যাগ করা শিক্ষকরা একাডেমিক কোনো পদ থেকে পদত্যাগ করেননি।

সোমবার সকাল ১১টার দিকে ওই শিক্ষকরা পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগ করা শিক্ষকদের মধ্যে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হকও রয়েছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুল আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মুস্তাকুর রহমান মুস্তাব পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর বেরিয়ে এসে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, আমরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। এ নিয়ে পরবর্তীতে বৈঠকের মাধ্যমে কর্মসূচি গ্রহণ করবেন শিক্ষকরা। তবে ক্লাস-পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে।

ড. জাফর ইকবাল বলেন, `উপাচার্যের ব্যবহারে অন্যান্য শিক্ষকরা কষ্ট পেয়েছেন। একইভাবে আমিও কষ্ট পেয়েছি। তাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।`

এদিকে শিক্ষকদের আন্দোলনের পরও পদত্যাগ না করে অনড় রয়েছেন উপাচার্য প্রফেসর ড. আমিনুল হক ভূঁইয়া। উপাচার্য জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষকদের পদত্যাগপত্র আমি গ্রহণ করবো না। আশা করি তারা পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে দায়িত্ব পালনে ফিরে যাবেন।

শিক্ষকরা তাকে ভুল বুঝেছেন উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, সেদিন কোনো শিক্ষকের সঙ্গে আমি অসৌজন্যমূলক আচরণ করিনি। ওইদিন আমার স্ত্রীর অসুস্থতার খবর আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চিকিৎসককে ডেকে বাসায় পাঠাই। তার অসুস্থতার কারণে তাদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারিনি। এরপরও আমি শিক্ষকদের কথা শুনেছি। এ কারণে যদি কেউ দুঃখ পেয়ে থাকেন তাহলে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

তিনি আন্দোলন ছেড়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে ফিরে আসার জন্য আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করা শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট, কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের পরিচালক পদ এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব ছেড়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. এমদাদুল হকসহ সাতজন সহকারী প্রক্টরও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

পদত্যাগ করা শিক্ষকদের মধ্যে আরও রয়েছেন, সেন্টার অব এক্সেলেসের পরিচালক মো. ইউনুছ, ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম, শাহ পরাণ হলের প্রাধ্যক্ষ আশরাফুল আলম, চার সহকারী প্রাধ্যক্ষ, প্রথম ছাত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ মারুবা শারমিন চৌধুরী, চার সহকারী প্রাধ্যক্ষ, দ্বিতীয় ছাত্র হলের প্রাধ্যক্ষ আবদুল গণি, চার সহকারী প্রাধ্যক্ষ, বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ ও একজন সহকারী প্রাধ্যক্ষ, সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রাধ্যক্ষ মো. ফারুক উদ্দিন ও একজন সহকারী প্রাধ্যক্ষ।

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল রাতে সরকার সমর্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের জরুরি সভা থেকে রোববারের মধ্যে উপাচার্যের অপসারণসহ চারদফা দাবি সম্বলিত আল্টিমেটাম দেন তারা।

প্রসঙ্গত, গত ১২এপ্রিল সকালে ফলিত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক জহির বিন আলম একাডেমিক ভবন ‘এ’তে এসে পদার্থ বিজ্ঞান ও জিওগ্রাফি বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন করেন। পরে এ বিষয়টি অবহিত করতে ওইদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় দুই বিভাগের ১৭ জন শিক্ষক উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি তাদের সময় দেননি।

এরপর থেকে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষকরা। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার পদত্যাগ করলেন বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ৩৫ জন শিক্ষক।

এসএস/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।