কে এই আমির!


প্রকাশিত: ০৭:৩৪ এএম, ২১ এপ্রিল ২০১৫

বয়স আনুমানিক পনের ষোলো। কারো সঙ্গে কথা বলে না। টাকা-পয়সা চায় না। আবার চায় না খেতে-পরতেও। তবে অনবরত ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি চোষে বেড়ান তিনি। এলাকার ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। নাম-পরিচয় জিজ্ঞেস করলে শুধু নির্বাক চোখে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। মাঝে মাঝে বলে ওঠে ‘আমির’। আর কিছুই বলতে পারেন না।

বছর খানেক আগে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার হারুঞ্জা বাজারে আবির্ভাব হয় তার। সেই থেকেই সে হারুঞ্জা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী বাবু মিয়ার সঙ্গে ওই বিদ্যালয়ের বারান্দায় নিয়মিত রাত যাপন করেন। এভাবেই চলছিল।

কয়েক দিন আগে ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হলে স্থানীয় লোকজন তাকে কালাই হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। কিন্তু ডায়রিয়া ছাড়াও সে আরও নানা জটিল রোগে আক্রান্ত বলে জানা গেছে। দিন দিন তার অবস্থার অবনতি ঘটছে। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবে সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। এ দুঃসময়ে নিকটতম আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতির প্রয়োজন ছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

হারুঞ্জা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী বাবু মিয়া বলেন, বছর খানেক আগ থেকেই নির্বাক আমির প্রতি রাতে আমার সঙ্গেই স্কুলের বারান্দাতেই ঘুমাতেন। সকাল হলেই নিজের ইচ্ছে মতো চলে যেতেন। বর্তমানে সে খুব অসুস্থ। আমি গরীব মানুষ। এ অবস্থায় তার প্রতি সহানুভূতি দেখানো ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই।

হারুঞ্জা গ্রামের অধিবাসী ও আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল খয়ের মওলা বলেন, নির্বাক নিরীহ প্রকৃতির ছেলে আমিরকে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেখা যেত। তিনি কারও কাছে টাকা-পয়সা এমনকি খাবারটুকুও চাইতেন না। বহুবার তার ঠিকানা জানার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি।

কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. আবু হোসেন বলেন, কয়েক দিন আগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে স্থানীয় লোকজন তাকে কালাই হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। কিন্তু সে ডায়রিয়া ছাড়াও আরও নানা জটিল রোগে আক্রান্ত। এ অবস্থায় তার আত্মীয় স্বজনদের উপস্থিতিসহ উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।

এসএস/বিএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।