উপলক্ষ যখন বৈশাখী মেলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৩:১৬ এএম, ০৮ এপ্রিল ২০১৭

আর কদিন পরই বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। বর্ষবরণের দিন থেকে পুরো মাস জুড়েই গ্রামগঞ্জে জমে ওঠবে বৈশাখী মেলা। যেখানে নানা পণ্যের পসরা সাজাবেন দোকানিরা। আর তাই মানিকগঞ্জের গ্রাম গুলোতে এখন বৈশাখী মেলার বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। কেউ বানাচ্ছেন খেলনা কেউবা মাটির তৈজসপত্র। কেউ আবার তৈরি করছেন বিন্নি-খৈয়ের সাজ।

সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের ভাটারা গ্রাম। এই গ্রামের কয়েকটি বণিক পরিবার বংশ পরম্পরায় সাজ তৈরি করেন। বড় বাতাসা, হাতি, ঘোড়া, পাখি, মকুট, নৌকাসহ নানা আকৃতির মিষ্টি জাতীয় এ সাজ মেলায় বিক্রি হয় বিন্নি-খৈয়ের সঙ্গে। বিশেষ কায়দায় চিনি ও আখের গুড় দিয়ে তৈরি এই সাজের চাহিদা অনেক। মানিকগঞ্জ জেলায় একমাত্র ভাটারা গ্রামেই সাজ তৈরি হয়।

Mela

সাজ কারিগর দিলীপ বণিক জানান, শীত মৌসুম থেকেই সাজের চাহিদা বাড়ে। তবে বৈশাখ উপলক্ষে এর চাহিদা অনেক বেশি। বর্তমানে দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের। পাইকাররা বাড়ি থেকে সাজ নিয়ে যায়। একমণ সাজ তৈরিতে খরচ হয় ২২০০ টাকা। পাইকারি বিক্রি হয় ২৮০০ টাকা। তবে চিনি ও লাকরির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাজ তৈরিতে আগের চেয়ে খরচ বেড়েছে বলে জানান তিনি।

শ্যামল বণিক নামে আরেক কারিগর জানান, মানিকগঞ্জ জেলা ছাড়াও এখানকার তৈরি সাজ ঢাকা, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হয়। সাজ তৈরিতে বাড়তি কোনো শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। স্ত্রী, ছেলে, মেয়েরাই এই কাজে সহযোগিতা করেন।

এদিকে সারা বছর দুরাবস্থায় কাটলেও বৈশাখে কিছুটা যেন প্রাণ ফিরেছে কুমার পাড়ায়। জেলার বিভিন্ন গ্রামে মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন মাটির খেলনা আর তৈজসপত্র তৈরিতে। বাড়ির উঠানে উঠানে শোভা পাচ্ছে মাটির পুতুল, হাতি, ঘোড়াসহ নানা খেলনা আর হাড়ি-পাতিল।

Mela

মৃৎশিল্পীরা জানান, বৈশাখী মেলায় বিক্রির জন্য তারা এসব পণ্য তৈরি করছেন। মেলায় এসব জিনিসপত্রের বেশ চাহিদা থাকে। তবে প্লাস্টিক, সিরামকসের দাপটের কারণে আগের মতো সারা বছর তাদের ব্যবসা থাকে না।

এছাড়া শিশুদের ঠেলা গাড়ি, বাঁশি, টমটম, লাটিমসহ বিভিন্ন খেলনা তৈরি হচ্ছে গ্রামে-গঞ্জে। কারিগররা জানান, বৈশাখী মেলা উপলক্ষে তারা এসব খেলনা তৈরি করে বাড়তি আয় করেন। এবার আগে থেকেই চাহিদা অনেক। তাই বেচা-বিক্রিও ভাল হওয়ার আশা করছেন তারা।

মানিকগঞ্জ জেলা চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুদেব সাহা জানান, গ্রামীণ এসব পণ্য সামগ্রী বৈশাখী মেলাকে শুধু রঙিনই করেনা এ মেলা গ্রামীণ অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করে। তাই গ্রামীণ ঐতিহ্যগুলো রক্ষায় সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। পৃষ্টপোষকতা দিতে হবে সরকারকে।

বি.এম খোরশেদ/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।