হিমেল হত্যায় একজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড


প্রকাশিত: ১০:০৮ এএম, ১১ এপ্রিল ২০১৭

রংপুর শহরের সেনানিবাস সংলগ্ন খলিফাপাড়া মহল্লায় ১০ বছরের শিশু হিমেল হত্যা মামলার প্রধান আসামি মারুফ হাসান মানিককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলীম আল রাজী আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। একই মামলায় মানিকের স্ত্রী রুনা আক্তার বৃষ্টিকে তিন বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন বিচারক।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘাতক মারুফ হোসেন মানিকের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার পার বোয়ালিয়া গ্রামে। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১৬ বছর বয়সে একই এলাকার নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রী রুনা আকতার বৃষ্টিকে প্রেম করে বিয়ের পর তারা রংপুরে পালিয়ে যায়।

রংপুরে এসে শহরের খলিফা পাড়া মহল্লায় আব্দুল করিম ভোলার বাড়ির একটি ঘর ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করে আসছিল। প্রেম করে বিয়ে করার পর পালিয়ে থাকার কারণে অর্থকষ্ট দেখা দেয় মানিকের। এক পর্যায়ে টাকার প্রলোভনে ভোলার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্র হিমেলকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করার পরিকল্পনা করেন তিনি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ২০১১ সালের ১১ নভেম্বর হিমেলকে অপহরণের পর গভীর রাতে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার মরদেহ বাড়ির ভিতর বালুচাপা দিয়ে রাখে মানিক ও তার স্ত্রী বৃষ্টি।

পরে মুঠোফোনের নতুন সিম কিনে এনে ফোন করে হিমেলের বাবার কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে মানিক। এরপর অবস্থা বেগতিক দেখে ১৪ নভেম্বর ভোরে মানিক ও বৃষ্টি বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ওই দিনেই পুলিশ বাড়ির ভিতর থেকে বালুচাপা অবস্থায় শিশু হিমেলের মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় হিমেলের বাবা বাদী হয়ে মানিক ও তার স্ত্রী বৃষ্টিকে আসামি করে কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

১৫ নভেম্বর পুলিশ অভিযান চালিয়ে নওগাঁর নিজ বাড়ি থেকে ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর হিমেল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং হত্যার পর তার মরদেহ সরাতে স্ত্রী বৃষ্টি সহায়তা করেছে বলে জানান তিনি। অভিযুক্ত মানিক গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকলেও তার স্ত্রী জামিনে বের হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছে। দীর্ঘদিন মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকার পর মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করা হয়।

এসময় বিচারক ঘটনার সময় ওই দুইজনের বয়সের কথা বিবেচনা করে মানিকের আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং বৃষ্টির তিন বছরের আটকাদেশ প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আব্দুস সাত্তার এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট বসুনিয়া আরিফুল হক।

জিতু কবীর/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।