ফুলছড়ি হাসপাতালে কাপড় ধোলাইয়ের কাজ পেল উচ্চ দরদাতা
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পথ্য, ধুপি ও মনোহারী সরবরাহকারি ঠিকাদার নিয়োগে নিয়ম না মানার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ না দিয়ে উচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। এর ফলে বছরে সরকারের প্রায় পাঁচ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।
ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পথ্য, মনোহারী ও বিবিধ সামগ্রী সরবরাহ এবং কাপড় ধোলাইয়ের ঠিকাদার নিয়োগের জন্য গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে মোট ৩৭টি দরপত্র বিক্রি হয় এবং জমা পড়ে ২৬টি।
পথ্য সরবরাহকারি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মেসার্স তানভির এন্টারপ্রাইজ ৩৮টি পথ্যের বিপরীতে মোট এক হাজার ৬১৩ টাকার দরপত্র দাখিল করেন। কিন্তু গত বছরের ১ ডিসেম্বর কার্যাদেশ পেয়েছেন মেসার্স রিমন এন্টারপ্রাইজ নামের অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটি ৩৮টি পথ্য সামগ্রীর বিপরীতে মোট এক হাজার ৬২৭ টাকার দরপত্র দাখিল করে। সর্বনিম্ন দরদাতার চেয়ে উচ্চদরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়ায় সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা বেশি ব্যয় হচ্ছে।
কাপড় ধোলাইয়ের ক্ষেত্রেও সরকারের বড় অংকের ব্যয় বেড়েছে। এই কাজে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মেসার্স তানভির এন্টারপ্রাইজ মোট ২১টি কাপড় ধোলাইয়ের বিপরীতে মোট ৯ টাকা ২০ পয়সার দরপত্র দাখিল করে। কিন্তু সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ না দিয়ে গত বছরের ৪ নভেম্বর কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে উচ্চদরদাতা তুর্য্য লন্ড্রী নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। প্রতিষ্ঠানটি ২১টি কাপড় ধোলাইয়ে ১৩১ টাকা দরপত্র দাখিল করে। এতে বছরে সরকারের প্রায় দুই লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে মেসার্স তানভির এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মো. তছলিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, প্রাক্কলিত বাজার দরের চেয়ে উর্দ্ধদর কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য হবে না মর্মে খোলা দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে (ওটিএম) পরিস্কারভাবে উল্লেখ থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি।
তিনি বলেন, পথ্য সরবরাহে কার্যাদেশ পাওয়া রিমন এন্টারপ্রাইজ ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরেও সর্বোচ্চ দরদাতা হলেও তাকেই কার্যাদেশ দেয়া হয়। এবারও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি অর্থের বিনিময়ে আমার চেয়ে উচ্চদরদাতা মেসার্স রিমন এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দিয়েছেন।
মনোহারী ৭৮টি পন্যের সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে লিয়াকত ইসলাম জামিল ১ হাজার ৭৪৩ টাকার দরপত্র দাখিল করেন। কিন্তু ৩ হাজার ৯২৪ টাকার দরপত্র দাখিলকারী পারভিন এন্টারপ্রাইজকে গত ২৮ নভেম্বর কার্যাদেশ দেয়া হয়। ফলে এখানেও সরকারের প্রায় দেড় লাখ টাকা বেশি ব্যয় হচ্ছে।
এ ব্যাপারে লিয়াকত ইসলাম জামিল অভিযোগ করেন, গণখাতে সংগ্রহ বিধিমালা লংঘন করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ঘুষ নিয়ে তাদের পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার চেয়ে উচ্চদরতাকে কার্যাদেশ দেয়ায় সরকারের প্রায় দেড় লাখ টাকা বেশি ব্যয় হচ্ছে।
এসব বিষয়ে মেসার্স রিমন এন্টারপ্রাইজ ও তুর্য্য লন্ড্রীর ঠিকাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) দেবাশীষ মন্ডল অংকুর বলেন, দরপত্র বিধিমালা মেনেই মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্তে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা অর্থ গ্রহণের ঘটনা ঘটেনি।
জানতে চাইলে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফিরোজ জামান মুঠোফোনে বলেন, আমি আহ্বায়ক ছিলাম ঠিক। কিন্তু সবকাজ করেছেন কমিটির সদস্য সচিব। তবে আমি স্বাক্ষর দিয়েছি মাত্র। অর্থ গ্রহণের বিষয়টি সঠিক নয়। তবে সামান্য অনিয়ম হতে পারে।
এমএএস/জেআইএম