সেই তাঁবুতেই দিন কাটছে দুই শতাধিক সাঁওতাল পরিবারের


প্রকাশিত: ০২:৩৭ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০১৭

খেয়ে না খেয়ে সেই তাঁবুতেই দিন কাটছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাঁওতালপল্লীর দুই শতাধিক সাঁওতাল পরিবারের। তবে সেখানকার পরিবেশ ও পরিস্থিতি বেশ শান্ত।

জেলা শহর থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাঁওতাল অধ্যুষিত মাদারপুর ও জয়পুরপাড়া গ্রাম। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাদারপুর গ্রামে ঢুকতেই দেখা গেল, গ্রামের সড়ক ধরে কয়েকজন মানুষ চলাচল করছে। আর কয়েকজন নারী দলবদ্ধভাবে বসে আছেন। তাদের চোখে মুখে চিন্তার ছাপ। সেখান থেকে একটু এগিয়ে গিয়েই চোখে পড়লো গির্জা। গির্জার আশপাশে এখনও তাঁবু। ওইসব তাঁবুতে বাস করেন সাঁওতাল ও বাঙালিরা। গত বছরের ৬ নভেম্বরের পর থেকে তাঁবুতে থাকেন তারা।

মাদারপুর গ্রামের আবদুল খালেক বলেন, বৈশাখ মাস উপলক্ষে প্রতি বছর ভালো খাবার ও নতুন কাপড়-চোপড় কেনা হয়। কিন্তু এবার হাতে তেমন কোনো কাজ না থাকায় কোনো মতে খেয়ে না খেয়ে দিন কেটে যাচ্ছে তাদের। সেখানে কি করে বৈশাখের জন্য কেনাকাটা করি।

Gaibandha

একই গ্রামের আবদুল জব্বার বলেন, ঘরে খাবার নেই। নেই স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ের কাপড়। নানা ধরনের শষ্কায় দিনাতিপাত করছি। জয়পুরপাড়া গ্রামের ফিরোজ কবির বলেন, হাতে কাজ নেই। প্রতি বছর বৈশাখ এলে আনন্দ-ফূর্তি হতো। বাড়িতে মেহমান আসত। কিন্তু সেই আনন্দ এবার নেই।

কয়েকজন সাঁওতাল নতুন করে তৈরি করছেন তাদের তাঁবু। কেননা গেল কয়েক দিন আগের ঝড় ও বৃষ্টিতে তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভিজে যায় তাদের কাপড়, তোষক, বইখাতাসহ অন্যান্য আসবাবপত্র। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন তারা।

Gaibandha

মাদারপুর গ্রামে তাঁবুতে আশ্রয় নেয়া টাটু টুডু বলেন, কয়েকদিন আগে হঠাৎ করে রাতে ঝড়-বৃষ্টি হয়। তখন দৌড়ে পার্শ্ববর্তী অন্যের বাড়ি যাই। কিন্তু তাঁবুর সবকিছু নিয়ে যেতে পারিনি। কাপড় ও অন্যান্য জিনিস ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। একই কথা বলেন তাঁবুতে আশ্রয় নেয়া রুমিলা কিসকু ও ফুলমতি মুরমু।

সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ইক্ষু খামার ভূমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সভাপতি ফিলিমিন বাস্কে জাগো নিউজ বলেন, বাঙালিদের মধ্যে বৈশাখের আমেজ নেই। কয়েক দিন আগে ঝড়-বৃষ্টিতে আমাদের তাঁবুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার বইখাতাসহ আসবাবপত্র ভিজে যায়। আমাদের লোকজনের মধ্যে এখন অভাব।

Gaibandha

রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ১৯৬২ সালে আখ চাষের জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় এক হাজার ৮৪২ একর জমি অধিগ্রহণ করে। তখন থেকে এসব জমিতে উৎপাদিত আখ চিনিকলে সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু আড়াই বছর আগে এসব জমি বাপ-দাদার দাবি করে আন্দোলনে নামে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লোকজন।

আন্দোলনের একপর্যায়ে তারা গত বছরের ১ জুলাই প্রায় ১০০ একর জমি দখলে নিয়ে একচালা ঘর নির্মাণ করে। ওইদিন থেকে তারা তীর-ধনুক নিয়ে জমি পাহারা দেয়। গত বছরের ৬ নভেম্বর চিনিকলের রোপণ করা আখ কাটতে গেলে সাঁওতালরা বাধা দিলে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। মারা যান তিন সাঁওতাল।

এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।