নওগাঁয় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি


প্রকাশিত: ০৭:৫৫ এএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৭

নওগাঁয় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি আর বাতাসে ধানের গাছগুলো পড়ে গিয়ে মাটি আর পানিতে একাকার হয়ে গেছে। ফলে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলেছে- ফসলের ক্ষতি হলেও ফলনে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে জেলায় কি পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে তা এখন নিরুপণ করতে পারেনি কৃষি অফিস।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে জেলায় এক লাখ ৯৮ হাজার ৪৬২ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এক লাখ ৮৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। তুলনামূলক কমছে ধানের আবাদ। ভূপৃষ্টে পানির স্তর দিন দিন কমে যাওয়ায় ফলে স্বল্প সময়ে ও স্বল্প পানিতে ফসল উৎপাদনে কৃষকদের রবি শষ্যের প্রতি উৎসাহিত করা হচ্ছে। ফলে ধানের আবাদ এ বছর কমে যাওয়ায় বৃদ্ধি পেয়েছে রবি শষ্য।

nowga

সোনালি ধানে ছেয়ে গেছে সারা মাঠ। কৃষকদের বুক ভরা আশা। আর কয়েকদিন পর মাঠের ফসল ঘরে তুলবে। কৃষকদের সেই আশায় যেন গুড়েবালি দিয়েছে কালবৈশাখী ঝড় ও হালকা শিলাবৃষ্টি। গত বুধবার থেকে ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ধানখেতে জমেছে পানি। বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে খেতের কাঁচা, আধাপাকা ও পাকা ধানগাছ মাটিতে পড়ে একাকার হয়ে গেছে।

জেলার অন্যান্য উপজেলার তুলনায় সদর উপজেলা, আত্রাই, রাণীনগর, মান্দা ও মহাদেবপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ধানের ক্ষতি হয়েছে। ধান পরিপুষ্ট হয়ে পাকার আগেই মাটিতে পড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই ধান কাটতে হচ্ছে কৃষকদের। সময়ের আগে ধান কাটার ফলে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্ক করছেন তারা। আবহাওয়ার এই অবস্থায় একই সঙ্গে মাঠে ফসল কাটায় শ্রমিক সংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে কৃষকদের।

সদর উপজেলার দুবলহাটি গ্রামের কৃষক আফসার আলী জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে আঠাস ধানের আবাদ করেছেন। ধান কাটতে এখনও ১০/১৫ দিন বাকী। বাতাসের কারণে ধানগাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে জমিতে এক গিরা পরিমাণ পানি জমে যাওয়ায় পড়ে যাওয়া ধানগাছ পানিতে ভাসছে। ধান শুয়ে পড়ায় ফলনের বিপর্যয়সহ লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। প্রতি বিঘায় প্রায় ৪/৫ মণ ধান কম হবে বলে তিনি মনে করেন।

nowga

চকগ্রাণ গ্রামের কৃষক কামরুজ্জামান বলেন, জিরা ও আঠাস ধান লম্বা হওয়ার কারণে বাতাসে মাটিতে পড়ে গেছে। আবহাওয়া খারাপের কারণে ২/৩দিন আগেই কাঁচা ধান কেটে নিলাম। এছাড়া শ্রমিক সংকট। তিন বেলা খাবার দিয়ে জনপ্রতি ৩৫০-৪৫০ টাকা মজুরি দিতে হয়েছে। মজুরি আরও বাড়তে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সত্যব্রত সাহা বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের কারণে কিছু জমিতে বোরো ধান হেলে পড়েছে। এখন বোরো ধান পাকা ও শক্ত অবস্থায় আছে। আশা করা যায় ফলনে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করছি। ৮০ ভাগ ধান পেকে গেলে অতিসত্ত্বর তারা যেন ধান কেটে নেয়।

আব্বাস আলী/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।