সিংড়ায় ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড
নাটোরের সিংড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে ইটালি ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এ সময় ওই এলাকার অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্তসহ গাছপালা উপড়ে যায়।
সোমবার সকালে আকস্মিক ঝড়ে এই বিপর্যয় ঘটেছে। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ঝড়ে ছোট বড় গাছপালা উপড়ে পড়ে গেছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে চলনবিলের অর্ধশতাধিক গ্রাম। এছাড়া বোরো ধান, ভূট্টাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখতে জনপ্রতিনিধি এবং ছাত্রলীগ কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানায়, সোমবার সকালে উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে আকস্মিক কাল বৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে মানিকদীঘি, পাকুরিয়া, কালাইকুড়ি, ছতর, ছাতুয়া গ্রামের প্রায় অর্ধশত কাঁচা-ঘর বাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে যায়।
ঝড়ে বিভিন্ন স্কুলের ছাউনি উড়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এছাড়া ছোট বড় গাছপালা উপড়ে পড়ে বাড়ি এবং রাস্তা-ঘাটে ভেঙে গেছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে উপজেলার অর্ধ শতাধিক গ্রামে। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন ওই গ্রামের বেশির ভাগ বাসিন্দা।
ইটালী ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম আরিফ জানান, আকস্মিক কাল বৈশাখী ঝড়ে তার ইউনিয়নের মানিকদীঘি, পাকুরিয়া, কালাইকুড়ি, ছতর, ছাতুয়া গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক কাঁচা ও আধা-পাকা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে।
এদিকে, ঘর-বাড়ির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উঠতি বোরো ধান, ভুট্টাসহ অন্যান্যে ফসলের। প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান মাটিতে শুয়ে পড়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ঝড় ও শিলা-বৃষ্টিতে পাকা বোরো ধান মাটিতে শুয়ে পড়ায় ক্ষতি হয়েছে। এর জন্য কৃষককে বাড়তি খরচ গুনতে হবে। তবে রোদের দেখা মিললে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কম হবে।
এদিকে, ঝড়ের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিংড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল আহসানসহ প্রশাসানের কর্তা ব্যক্তিরা।
পরিদর্শন শেষে সিংড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল আহসান বলেন, ঝড়ে উপজেলার ইটালি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অন্তত ৪০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ থেকে ৬টি বাড়ি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার তালিকা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রেজাউল করিম রেজা/এএম/আরআইপি