কক্সবাজারে ডিসির বলী খেলার ৬২তম আসর
কক্সবাজারের ডিসি সাহেবের বলী খেলা ও বৈশাখী মেলার ৬২তম আসর শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে আসরের উদ্বোধন করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন।
জেলা ক্রীড়া সংস্থা (ডিএসএ) আয়োজিত দু’দিন ব্যাপী বলী খেলা ও বৈশাখী মেলার উদ্বোধন কালে জেলা প্রশাসক বলেন, বলী খেলা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। কিন্তু প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় এটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। চর্চার অভাবে নাম করা বয়স্ক পুরাতন বলীদের মতো আর উত্তরসূরী উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে প্রাচীন এ ঐতিহ্য।
বলী খেলা উদযাপন পরিষদ সচিব ডিএসএ সদস্য পৌর কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন কবিরের সঞ্চালনায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএসএ সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপু, যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন, অতিরিক্ত সম্পাদক নুরুল আবছার, শফিকুর রহমান কোম্পানী, হারুন অর রশিদ, শাহীনুল হক মার্সাল, রাসেদ হোসেন নান্নু, শাহজাহান আনসারী, আলী রেজা তসলীম, খালেদ আজম, ওমর ফারুখ ফরহাদ, সুবীর বড়ুয়া বুলু, আমিনুল ইসলাম মুকুল, জসিম উদ্দিন ও খালেদা জেসমিন ও প্রাচীন বলীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবারের মতো এবারের আসরেও দেশের নামকরা কুস্তিবিদগণ (বলী) অংশ নিচ্ছেন। প্রথমদিন তৃতীয় ও দ্বিতীয় মেডেলের খেলায় ২৫টি জুটি অংশ নেয়। আজ (শুক্রবার) ফাইনাল খেলায় প্রথম লেভেলে জব্বারের বলী খেলার চ্যাম্পিয়ন দিদার বলী ও রানার্স আপ শামশু বলী অংশ নিবেন।
মাঠে বলী খেলার পাশাপাশি বাইরে ঈদগাহ ময়দানে নাগরদোলা, হস্তশিল্প, কুটিরশিল্প, তাঁতশিল্প, বস্ত্রশিল্প, মৃৎশিল্প ও দেশীয় সাংস্কৃতির নানা পণ্যের সমাহার বসিয়ে জমানো হয়েছে বৈশাখী মেলা।
গত ২১ ও ২২ এপ্রিল এবারের আসর বসার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা পরিবর্তন করে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৫৬ সালে এসডিও সাহেবের বলী খেলা হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ কক্সবাজার জেলায় উন্নীত হওয়ার পর এটি ডিসি সাহেবের বলী খেলা হিসেবে যুগ যুগ ধরে সমুদ্র নগরীর মানুষের বাঙ্গালীয়ানার বিনোদনের অংশ হিসেবে চলে আসছে।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এমএস