জাল সনদপত্র দিয়ে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীর ২৫ বছর চাকুরি!
জাল সনদপত্র দিয়ে ২৫বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করছেন আব্দুল হান্নান নামে এক ভারতীয় গরু ব্যবসায়ী। সম্প্রতি ঘটনাটি ফাঁস হলেও তিনি এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
আব্দুল হান্নান ভারতের পশ্চিবাংলার মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর থানার মন্ডাই গ্রামের গিয়াস উদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম মনাকষার হাজী এশান কারিগরি কামিল মাদ্রাসায় ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাদিকুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি অপারগ। কারণ কমিটির আর্শীবাদ রয়েছে তার ওপর।
একটি সূত্র জানায়, আব্দুল হান্নান ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ নাগরিক সেজে ভারতে এসএসসি ও বাংলাদেশে এইচএসসি, বিএ এবং বিএড ( শেষেরটা অফিসে এখনও দাখিল করা হয়নি) পরীক্ষার জাল সনদপত্র তৈরি করে ২৫ বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাজী এশান কারিগরি কামিল মাদ্রাসায় ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।
সূত্রমতে, ভারতীয় নাগরিক মোহা. আব্দুল হান্নান ১৯৮৯ সালের ১ অক্টোবর ভারতের এসএসসি (১৯৭৭) ও বাংলাদেশের এইচএসসি (১৯৭৯ ) এবং বিএ (১৯৮২) পরীক্ষার জাল সনদসহ দিয়ে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটিকে ম্যানেজ করেন এবং ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে আবেদন করেন। পরে তিনি চাকুরিটা পান। ওই সময় বিএড পরীক্ষার সনদ পরবর্তীতে অফিসে জমা দিবেন বলে জানান। কিন্তু আজ অবধি তিনি ওই সনদ প্রতিষ্ঠানে দাখিল করেন নি। যখনই ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তার সদনপত্রটি চাওয়া হয় তখনই তিনি বিভিন্ন টালবাহানা করে সময় ক্ষেপন করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, আব্দুল হান্নান ভারতে গরুর ব্যবসা করতো এবং মূলত গরুর ব্যবসা করার জন্যই তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করেন। তিনি মাসের পর মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে কখনো ভারতে আবার কখনোবা গরুর ব্যবসার জন্য রাজশাহীর সিডির হাটে অবস্থান করে থাকেন। তিনি বছরে ২/৩ মাস প্রতিষ্ঠানে হাজিরা দিয়ে ২৫বছর ধরে বেতন তুলে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহা.সামশুল আলমের নিকট জানতে চাইলে তিনি বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে জানান, আব্দুল হান্নান প্রকৃতপক্ষে ভারতের নাগরিক। প্রতিষ্ঠান প্রধান জেডএ বকুল তাকে চাকুরিটা দিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, যখনই আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেছি তখনই তার লোকজনের পেশি শক্তির কাছে আমি পেরে উঠতে পারিনি।
এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহা. সাদিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে কমিটির ওপর দায় চাপান।
এদিকে মোবাইল ফোনে আব্দুল হান্নানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক নাম শুনে কথা বলবেন না বলে মোবাইল সংযোগ কেটে দেন। পরে তাকে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভি করেন নি।
এসএস/পিআর