ফেনী কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চার গুণ বন্দি
ফেনীতে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য জেলা কারাগার নির্মাণের কাজ দীর্ঘ এক দশকে শেষ না হওয়ায় স্থান সংকুলানের অভাবে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কয়েদিরা। এতে যাবতীয় ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ১৭২ জন বন্দির জন্য নির্মাণ করা কারাগারে বর্তমানে রাখা হয়েছে ৬৫৮ জন বন্দিকে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত ৪ মাসে সারা দেশের ন্যায় ফেনীতেও গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে গেছে। কয়েদিদের মধ্যে কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধী থাকলেও অনেক বন্দি রয়েছে যারা ঠুনকো অজুহাতে কারাগারে দিনাতিপাত করছেন। এছাড়াও শিশু, কিশোর ও নারী কয়েদিও রয়েছেন ফেনী জেলা কারাগারে।
ফেনী জেলা কারাগার সূত্র জানায়, ফেনী কারাগারে বর্তমানে ৬৫৮ জন বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে ১০ জন মহিলা, ১০২ জন সাজাপ্রাপ্ত, ১৪ জন বিজিবি সদস্য, ১ জন ভারতীয় ছাড়াও বাকিদের মধ্যে মসজিদের ইমাম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কয়েদি জানান, কারাগারের ভেতরে টয়লেট করতে হলে দীর্ঘক্ষণ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে করে অনেক বন্দি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাছাড়া বন্দি বেশি হওয়ায় কয়েদিরা তাদের প্রাপ্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকে ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না এ ছাড়াও কারাগারে বন্দির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাওয়ার মান কমতে শুরু করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সদ্য কারা মুক্ত আবুল কালাম জানান, বন্দির সংখ্যা বাড়ার কারণে জেলা কারাগারে চর্ম রোগসহ নানা রোগের প্রকোপ বেড়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ সময় ও চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা না দেয়ায় সংক্রামক রোগগুলো দিন দিন মহামারি আকার ধারণ করছে।
জানা যায়, ১৮৭৬ সালে ২ জন হাজতিকে রাখার জন্য ফেনী শহরের মাঝখানে ১ একর জায়গার উপর একটি ব্যারাক নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৪ সালে ফেনীকে জেলা ঘোষণার পর খুঁটিনাটি কাজ করে এটিকে জেলা কারাগার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে এখানে একটি ৪ তলা ভবন ও ২টি ব্যারাক রয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী একেএম মোস্তফা জাগো নিউজকে জানান, ফেনীতে কয়েদিদের সার্বিক অধিকার রক্ষার্থে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে ফেনীর রানীর হাটস্থ কারাগার নির্মাণের টেন্ডার দেয়া হয়। এর মধ্যে ২০ কোটি টাকার কার্যাদেশ প্রদানের ২ বছরের মাথায় সীমানা প্রাচীর ও উঁচু দেয়াল তৈরির কাজ আংশিক শেষ হয়েছে। ধারাবাহিক কাজ চললে আগামী ২০১৬ সালে এ কারাগার নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের ২০ মে ঠিকাদার ও ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একরামকে হত্যা করার পর কারাগার নির্মাণ কাজ থমকে দাঁড়ায়।
এটি নির্মাণের জন্য পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হবে বলে জানানো হলেও কার্যত কোন প্রদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে জেলার একমাত্র কারাগারটিতে দিন দিন বন্দির সংখ্যা বাড়তে থাকে।
ফেনী কারাগারের জেল সুপার আনোয়ারুল করিম জাগো নিউজকে জানান, জেলায় অন্য কোন কারাগার না থাকায় এখানে কয়েদির চাপ সব সময়েই বেশি থাকে। তারপরও জেলা কারাগারে বন্দিদের সকল সুযোগ-সুবিধা বিধান অনুযায়ী নিশ্চিত করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
এমজেড/আরআই