টেকনাফে দু’ব্যবসায়ীকে আটকের জেরে বিক্ষোভ


প্রকাশিত: ১২:৩৩ পিএম, ০২ মে ২০১৭

কক্সবাজারের টেকনাফের খারাংখালী বাজারের দুই ব্যবসায়ীকে আটক করার প্রতিবাদে বাজার কমিটি ও এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এসময় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করে রাখা হয়। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এ অবরোধ অব্যাহত ছিল।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ভোর ৩টায় টেকনাফ থানা পুলিশের একদল পুলিশ খারাংখালী এলাকার ঠাণ্ডা মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দু’সহোদর আবুল কাশেম ও আব্দু সালাম প্রকাশ ভুলুরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

সকালে এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বাজার কমিটির লোকজন ও এলাকাবাসী সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখে। এসময় এলাকায় উত্তেজনা বাড়লে ঘটনাস্থলে টেকনাফ থানা পুলিশের কয়েকটি দল ও ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পরিচালক আবু রাসেল ছিদ্দিকীর নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তার আগে প্রায় ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সওদাগর আবুল কাশেম ও আব্দু সালাম পুরোনো মুদি দোকানি। তারা কোনো ধরনের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়। পুলিশ ইয়াবা উদ্ধারের নামে তাদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়ায় প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক অবরোধ করা হয়।

পুলিশের দাবি ইয়াবা উদ্ধারের অভিযানে চিহ্নিত কয়েকজন সন্ত্রাসী ও ইয়াবা ব্যবসায়ীর ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

আব্দুস সালামের স্ত্রী হালিমা বেগম জানান, রাত ৩টায় একদল পুলিশ বাড়িতে ঢুকে ইয়াবা উদ্ধারের নামে তল্লাশি চালায়। কোনো ইয়াবা না পেয়ে বিকাশের রক্ষিত নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা, বিকাশের দৈনন্দিন হিসাবের খাতাটি নিয়ে যায়। পাশাপাশি ভাসুরের (স্বামীর ভাই) বাড়ি থেকে ৩ ভরি স্বর্ণ ৪২ হাজার টাকাসহ তাকেও আটক করা হয়। তার দাবি স্বামী বৈধ একজন ব্যবসায়ী। তাদের অযথা হয়রানি করা হচ্ছে।

স্থানীয় মেম্বার জাহেদ হোসাইন আটক সহোদরকে বৈধ ব্যবসায়ী দাবি করে বলেন, তাদের বাড়ি থেকে টাকা ও স্বর্ণ লুট করার বিষয়টি শুনেছি।

বাজার কমিটির সভাপতি শেখ শাহ আলম দুই দোকানদারকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে বলেন, এরপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহযোগিতা করা হয়েছে।

টেকনাফ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মইন উদ্দিন জানান, ইয়াবা উদ্ধারের বিশেষ অভিযানে তাদেরকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ইয়াবার সরঞ্জমাদি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি যারা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কত রাউন্ড গুলি ফায়ার করেছে এবং কি ইয়াবা ও কি ধরনের সরঞ্জামাদি পাওয়া গেছে তা নিশ্চিত করতে পারেননি ওসি।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।