টাঙ্গাইলে ১০ শিক্ষার্থীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন


প্রকাশিত: ০১:৪১ পিএম, ০৬ মে ২০১৭

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের শাহীন শিক্ষা পরিবারের ১০/১২ জন আবাসিক শিক্ষার্থীর উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা অসুস্থ অবস্থায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

আহত শিক্ষার্থীরা জানায়, গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নবম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়টি আবাসিক ভবন পরিচালক বাবুল হোসেনের কাছে অভিযোগ করে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি দশম শ্রেণির ১০/১২ জন শিক্ষার্থীকে ভবনের একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে ও কক্ষ বন্ধ করে মধ্যযুগীয় কায়দায় লাঠি দিয়ে মারধর করে।

student

মারধরের প্রতিবাদ করায় বগুড়া জেলার তালোরা এলাকার আলহাজ সামাদ মিয়ার ছেলে প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্র রিজভীকে ক্ষিপ্ত হয়ে পৈচাশ্বিক কায়দায় রড আগুনে পুড়িয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাকা দেয়। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা রিজভীসহ আহত ৫ শিক্ষার্থীকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বাকি আহত ৫/৬ জন শিক্ষার্থী আবাসিক ভবন থেকে পালিয়ে গেছে বলেও জানায় অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিনিয়তই এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়ে আসছেন অভিযুক্ত এই শিক্ষক। এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি তুলেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

student

শাহীন শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসাধীন ওই ৫ জনকে শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিদ্যালয় ভবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল শাহীন আবাসিক স্কুলের অধ্যক্ষ আসলাম হোসেন নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরিফ উর রহমান টগর/এমএএস/আরআইপি


পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।