শেরপুরে এডাব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহারে বেড়েছে ধানের ফলন


প্রকাশিত: ১২:১৯ পিএম, ০৪ মে ২০১৫

শেরপুরে পানি সাশ্রয়ীএডাব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবার প্রচলিত সেচ পদ্ধতির চাইতে বোরা ধানে একর প্রতি ফলন ৮ থেকে ১২ মণ বেশি পাওয়া গেছে। এতে ভূ-গর্ভস্থ পানির সাশ্রয়ের পাশপাশি সেচ খরচও কম হয়েছে আবার ধানও বেশ পুষ্ট হয়েছে। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ প্রযুক্তি বেশ আশার সঞ্চার করেছে।  

শেরপুরের নকলা উপজেলার রুনীগাঁও গ্রামের কৃষক আনিসুর রহমানের ইস্পাহানি হাইব্রীড জাতের বোরো ধান কেটে এডাব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহারে যেখানে ফলন হয়েছে একর প্রতি ৭০ মণ। সেখানে প্রচলিত পদ্ধতির সেচে ফলন মিলেছে ৫৮ থেকে ৬২ মণ।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, এডাব্লিউডি প্রযুক্তিতে ধান ক্ষেতে ১২ ইঞ্চি লম্বা ও তিন ইঞ্চি ব্যাসের ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিক বা বাঁশের পাইপ যার ৮ ইঞ্চি মাটির নিচে পুতে রাখা হয়। যার মাধ্যমে ভেতরের পানির স্তর পরীক্ষা করে প্রয়োজনমতো পানি সেচ দেওয়া হয়ে থাকে। এই প্রযুক্তিতে অন্তত ৪/৫টি সেচ সাশ্রয় হয়। তাছাড়া এক কেজি ধান উৎপাদনে যেখানে প্রায় ৩ হাজার লিটার পানির প্রয়োজন হয় সেখানে এডাব্লিউডি প্রযুক্তিতে এক কেজি ধান উৎপাদনে মাত্র ১ হাজার ২০০ লিটার পানি লাগে। এই পাইপ তৈরি করতে তেমন কোনো খরচও হয় না। কৃষকরা বাঁশ ছিদ্র করে কিংবা ২ লিটার কোমল পানীয় কিংবা পানির বোতল ছিদ্র করেও এ ধরনের পাইপ বানাতে পারেন। প্রতি একরে এ ধরনের তিনটি ছিদ্রযুক্ত পাইপ একই সমতলে ক্ষেতের তিনটি স্থানে খাড়াভাবে বসাতে হয়।

শেরপুর খামারবাড়ীর উপ-পরিচালক ড. মো. আব্দুস ছালাম বলেন, এডাব্লিউডি প্রযুক্তি জনপ্রিয় হলে মূল্যবান সেচের পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে। কৃষকের সেচ খরচও কমবে। ধানের ফলন বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে। এতে পরিবেশ দূষণ, আর্সেনিক দূষণ কমবে এবং মরুময়তা রোধ হবে। আমরা ভূ-গর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ করতে কৃষকদেরকে পর্যায়ক্রমিক ভেজানো ও শুকানো পদ্ধতিতে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি।   

হাকিম বাবুল/এসএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।